জাতীয় ধর্ম বিভাগীয় সংবাদ হিন্দু

কালীগঞ্জে স্নানোৎসবে পুণ্যার্থীদের ঢল

গাজীপুর প্রতিনিধি: ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য তুমি আমার পাপ হরণ কর’ পবিত্র এ মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসন্তি ও গঙ্গা পূজা এবং অষ্টমী স্নানোৎসব। আর এতে প্রায় ৪০ হাজার শিশু-নারী-পুরুষ ভক্তের সমাগম ঘটেছে।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে অষ্টমী স্নানোৎসব শুরু হলেও শনিবারও (১৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয় স্নানোৎসব। চলবে আগামীকাল রবিবার (১৪ এপ্রিল) রাত ১০টা পর্যন্ত।

জনশ্রুতি আছে, হিন্দু দেবতা পরশুরাম হিমালয়ের মানস সরোবরে গোসল করে পাপমুক্ত হন। লাঙ্গল দিয়ে চষে হিমালয় থেকে এ পানিকে ব্রহ্মনপুত্র নদরুপে নামিয়ে আনেন সমভূমিতে। সমভূমিতে আনার পর তিনি যেখানে এসে লাঙ্গল থামিয়ে বা বন্ধ করে বিশ্রাম নেন। পরে লাঙ্গলবন্ধ কালের বিবর্তনে লাঙ্গলবন্দে রূপ নেয়। আর তারই ধারাবাহিকতায় কালীগঞ্জ পৌর কেন্দ্রীয় শ্মশান ঘাটে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিজেদের পাপ মোচনের লক্ষ্যে বাসন্তি ও গঙ্গা পূজা এবং অষ্টমী স্নানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

সরজমিনে শনিবার সকালে দেখা গেছে, বাসন্তি ও গঙ্গা পূজা এবং অষ্টমী স্নানোৎসব পালনের জন্য গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্রীয় শ্মশান ঘাটে শীতলক্ষ্যা নদে নিজেদের পাপ মোচনে হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঢল নেমেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শিশু-নারী-পুরুষ এতে যোগ দেয়। ভক্তবৃন্দরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে স্নানোৎসবে অংশ নেন। আর এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

কালীগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রণম কুমার দাস জানান, কালীগঞ্জে কেন্দ্রীয় শ্মশান ঘাট কমিটির উদ্যোগে প্রতি বছর শীতলক্ষ্যা নদের শ্মশান ঘাটে বাসন্তি ও গঙ্গা পূজা এবং অষ্টমী স্নানোৎসবের আয়োজন করা হয়। আর এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রায় ৪০ হাজার শিশু-নারী-পুরুষ যোগ দেয়।

স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি সন্তোস চন্দ্র রায় জানান, এ স্নানোৎসব শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রবিবার (১৪ এপ্রিল) রাত ১০ পর্যন্ত। এ স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে শীতলক্ষ্যা তীরের কেন্দ্রীয় শ্মশান ঘাটে বসছে তিনব্যাপী মেলা। মেলায় বাহারি পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুবকর মিয়া জানান, বাসন্তি ও গঙ্গা পূজা এবং অষ্টমী স্নানোৎসব উপলক্ষে শুক্রবার সকাল থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্নানোৎসবে আসা ভক্তবৃন্দের জন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। ছিল ফায়ার সার্ভিসের লোকজনও।

জুমবাংলানিউজ/একেএ