অন্যরকম খবর লাইফস্টাইল

কচ্ছপ এক অদ্ভুত জীব!

[better-ads type='banner' banner='1187323' ]

জুমবাংলা ডেস্ক : ২৩শে মে ছিল বিশ্ব কচ্ছপ দিবস৷ কচ্ছপরা বিপন্ন প্রাণীদের মধ্যে পড়ে, অর্থাৎ ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে চলেছে কচ্ছপ৷ চলুন, কিছু বিখ্যাত কচ্ছপের সঙ্গে আপনাদের আলাপ করিয়ে দেওয়া যাক৷

প্রাগৈতিহাসিক

প্রাণীজগতের প্রাচীনতম বাসিন্দাদের মধ্যে পড়ে এই কচ্ছপরা৷ কচ্ছপদের যেসব ফসিল বা জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় যে, কচ্ছপরা বিশ কোটি বছর আগেও পৃথিবীতে ছিল৷ জলজ কচ্ছপরা আছে অন্তত পনেরো কোটি বছর ধরে৷

খোলস তো নয়, যেন সাঁজোয়া!

কচ্ছপরা সবরকমের প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামলে উঠেছে, এমনকি তুষার যুগও সামলে এখনো টিকে আছে৷ প্রাপ্তবয়স্ক কচ্ছপদের আসলে মানুষের চেয়ে বড় কোনো শত্রু নেই৷ জাহাজের নাবিক আর মাল্লারা এককালে কচ্ছপ ধরে খেতো৷ আজও কিছু কিছু কচ্ছপের মাংস অতীব উপাদেয় বলে গণ্য করা হয়৷ বাকিরা কচ্ছপ না খেলেও, তাদের ডিম পাড়ার জায়গা দখল করছে…৷

কচ্ছপ ট্র্যাজেডি

এই কচ্ছপটির নাম ‘লোনসাম জর্জ’, ‘নিঃসঙ্গ জর্জ’৷ এখন তাকে মমি করে মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে৷ এই বিশাল কচ্ছপটি হার্ট ফেল করে মারা যায় ২০১২ সালে৷ আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৭১ সালে ইকুয়েডরের কাছে গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে৷ পরে নিঃসঙ্গ জর্জের গোটা সতেরো জ্ঞাতি-গুষ্টি আবিষ্কৃত হয়েছে৷

দু’শ বছরের বৃদ্ধা

নিঃসঙ্গ জর্জের বয়স হয়েছিল প্রায় একশো বছর, শেষে ওজন দাঁড়িয়েছিল ৯০ কিলোগ্রাম৷ ছবিতে যাকে দেখা যাচ্ছে, সেই এসমেরেল্ডা-র কাছে তা কিছুই নয়৷ এসমেরেল্ডা থাকেন সেশেল দ্বীপপুঞ্জের বার্ড আইল্যান্ডে৷ তিনি নাকি জীবিত কচ্ছপদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ: বয়স দু’শ বছর হলেও আশ্চর্য নেই৷ ওজন ৮০০ কিলোগ্রামের কিছু বেশি৷

১১২ বছর ধরে পেনশন!

টিমোথির জন্ম ১৮৪৪ সালের আশেপাশে৷ ১৮৫৪ সালে ক্যাপ্টেন কোর্টনে এভারার্ড পর্তুগিজ জলদস্যুদের জাহাজে খুঁজে পান এই কচ্ছপটিকে৷ পরের ৩৮ বছর ধরে টিমোথি বিভিন্ন ব্রিটিশ জঙ্গিজাহাজে মাস্কট হয়ে ঘুরে বেরিয়েছে৷ অবসর নেয় ১৮৯২ সালে৷ অবসরজীবন কাটে পাউডারহ্যাম ক্যাসলের গোলাপ বাগানে৷ ১১২ বছর পেনশন ভোগ করার পর টিমোথি দুনিয়া ছাড়ে ২০০৪ সালে৷ ও হ্যাঁ, টিমোথি নাম হলে কি হবে, সে কিন্তু ছেলে নয়, মেয়ে কচ্ছপ৷

কচ্ছপের সাইজ যখন এক্সএক্সএল!

গালাপাগোস বা সেশেল দ্বীপপুঞ্জের কচ্ছপরা এক মিটার কিংবা তার বেশি লম্বা হতে পারে, কিন্তু সামুদ্রিক কচ্ছপরা আরও বড়৷ ছবিতে যে লেদারব্যাক টার্টল কচ্ছপটিকে দেখা যাচ্ছে, সে আড়াই মিটার লম্বা, ওজন ৯০০ কিলোগ্রাম৷ অপরদিকে স্পেকল্ড কেপ টর্টয়েজ প্রজাতির পুরুষ কচ্ছপরা মাত্র ৮ সেন্টিমিটার লম্বা হয়৷

যেমন ওজন, তেমনি গতি

লেদারব্যাক টার্টলরা অতিকায় বলে তাদের মন্থর ভাবার কোনো কারণ নেই৷ প্রয়োজনে তারা ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার গতিতে সাঁতরাতে পারে৷ তাদের বাচ্চারা ডিম ফুটে বেরিয়েই পানির দিকে দৌড়ায়৷ অন্যদিকে গফার কচ্ছপরা থাকে শুকনো ডাঙায়, যেখানে তাদের গতিবেগ হয় ঘণ্টায় ২১০ মিটার থেকে ৪৮০ মিটার , মিটারে বলা হলো, যাতে গফার কচ্ছপরা মাইন্ড না করে!

ভারসাম্য

কথায় বলে না, কিন্তু বলা যায়: কচ্ছপের জান! তবে মানুষের সঙ্গে যুঝে ওঠার ক্ষমতা আছে কি তাদের? অস্ট্রেলিয়ার এক ওসেনোগ্রাফার বলেছেন, ‘‘আমরা তাদের সাহায্য না করলে কচ্ছপদের অস্তিত্বের সংকট৷’’ কথাটা ভাববার মতো – শুধু বিশ্ব কচ্ছপ দিবসেই নয়৷

জুমবাংলানিউজ/ এইচ জে