জাতীয় মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

ওবামার কোলে চড়া সেই ছোট্ট মেয়েটি এখন বাংলাদেশে

ওবামার কোলে ১৪ মাসের আইয়ান। ছবি: ইন্টারনেট থেকে

জুমবাংলা ডেস্ক : বছর ছয়েক আগের কথা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তখন বারাক ওবামা। বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তির কোলে চড়ে খবরের শিরোনাম হন ১৪ মাস বয়সী বাংলাদেশি শিশু আইয়ান। ওবামার কোলে চড়ে দুষ্টুমি, টাইয়ের নট ঢিলে করে দেওয়ার সেই ছবিগুলো গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল দ্রুত। আর কিছু না করেই খবরের শিরোনাম হন ছোট্ট শিশু আইয়ান। সেই আইয়ান এখন বাংলাদেশে। বাবা-মার সঙ্গে দেশে ঘুরতে এসেছেন। বাবা-মা এসেছেন সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে। ওবামার সান্নিধ্যে আসা সেই পরিবার একটি দৈনিকের কাছে বলেছেন পুরনো সেই গল্প।

এই পরিবারের কর্তা সাংবাদিক জুয়েল সামাদ। আইয়ান তার প্রথম সন্তান। সেই ছোট্ট শিশু এখন বড় হয়েছে। এখন তার বয়স ৮ বছর। মা-বাবা আর ছোট বোন চার বছরের অ্যালিনের সঙ্গে সেও এখন ঢাকায়। রাজধানীর কাঁঠালবাগানে ফ্রি স্কুল স্ট্রিট রোডে খালার বাসায় থাকছেন ওরা।
আইয়ানের কাছে প্রশ্ন ছিল বড় হয়ে সে কী হতে চায়। শান্ত আইয়ানের ঝটপট জবাব, ‘টিচার হতে চাই।’ আইয়ানের উত্তরেই স্পষ্ট তার বেড়ে ওঠার পারিপার্শ্বিক বলয় আর আমাদের বলয়ের মধ্যে ঢের পার্থক্য। আমাদের এই উপমহাদেশে শিশুদের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বড় হয়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া অন্য কিছু হতে চাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু আইয়ান বেড়ে ওঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে। আর তাই তার চিন্তাভাবনাও চমৎকৃত হওয়ার মতো। কিন্তু এতকিছু থাকতে আইয়ান কেন শিক্ষকই হতে চাইছে? ‘আমি সবাইকে পড়াব। শেখাব। এটা অনেক মজার। আমি টিচারই হব।’

আইয়ানের জবাবে দৃঢ়তা স্পষ্ট। অবশ্য আইয়ানের বাবা এবং মাও তার এই ইচ্ছাকে সম্মান করেন। জানালেন মেয়ে যেমনটা চায় তেমনই হবে। কথায় কথায় আইয়ান সম্পর্কে নানা তথ্য জানা হলো। আইয়ানের প্রিয় ফল ‘ম্যাঙ্গো’। বাংলাদেশ সম্পর্কে তার খুবই আগ্রহ। এখানকার সবকিছুই তার কাছে ইন্টারেস্টিং মনে হয়। তবে এখানকার রাস্তাঘাট নিয়ে তার একটা টেনশন কাজ করে। আইয়ানের ধারণা এই রাস্তাঘাটগুলো খুবই কষ্টে আছে। এ কথা অবশ্য আরও বছর দুই আগের। এখন কেমন মনে হয় জানতে চাইলে আইয়ানের মা গোধূলি খান জানান আইয়ান এবার বাংলাদেশে এসে খুবই খুশি। তার কাজিনদের সঙ্গে সময় কাটানোটা সে সবচেয়ে বেশি ইনজয় করে।

বাংলাদেশটা তার কাছে এখন এক প্রশান্তির জায়গা। কারণ স্কুলের হোমওয়ার্ক থাকে না আর যা থাকে তার নাম অবাধ স্বাধীনতা। তাই আইয়ান ও তার ছোট বোনকে নিয়ে প্রায় প্রতি বছরই বাংলাদেশে আসেন সামাদ পরিবার।

জুয়েল সামাদ এএফপির ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। প্রথমে ঢাকায়, এরপর নিযুক্ত হন পাকিস্তানে। ২০০৫ সালে পাকিস্তান থেকে ইন্দোনেশিয়া ও পরে ২০০৭ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস, ২০০৮ সালে ওয়াশিংটন এবং ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে নিযুক্ত হন। এ বছরের মার্চে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান ফটোসাংবাদিক হিসেবে ব্যাংকক কার্যালয়ে নিযুক্ত হয়েছেন। এসবের আগে তিনি ঢাকায় মর্নিং সান ও জনকণ্ঠে কাজ করেছেন।

ছবিতে ৮ বছর বয়সী আইয়ান। ছবি: ইন্টারনেট থেকে

বাবার কর্মসূত্রে আইয়ানরা এখন ব্যাংককে থাকছে। পুরনো সেই ছবিটির প্রসঙ্গ আসতেই আইয়ানের চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস ধরা পড়ল। তবে সেদিনের সেই স্মৃতি তার একটুও মনে নেই। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় বাড়ির দেয়ালে ঝুলানো এই ছবিটা দেখেই আইয়ানের বন্ধুরা চমকে ওঠত। আইয়ানেরও দারুণ গর্ব বোধ হতো। সবাই আইয়ানকে খুব পাওয়ারফুল মনে করত। তবে ব্যাংককে আসার পর এই ছবিটা আর বন্ধুদের অবাক করে না। কারণ আইয়ানের এখানকার বন্ধুরা বারাক ওবামাকে তেমন চেনে না। আইয়ান বড় হয়ে বিখ্যাত শিক্ষক হবে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে এমন প্রত্যাশা আমাদের সবার। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

জুমবাংলানিউজ/এসএস