জাতীয় মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

ওটা ছিল রসিকতা: মান্না

এক সময় আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার জন্য নিজেকে ‘বেকুব’ বলার একদিন পরই সুর পাল্টিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, এটা ছিল রসিকতার জবাবে একটা রসিকতা। আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়াটা একটা বেকুবি ছিল- তা তিনি বোঝাননি।

রোববার ব্যক্তিগত ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাহমুদুর মান্না আরও বলেছেন, আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়াই তার ভুল ছিল- এখনো তিনি তা মনে করেন না। কিছু পাওয়ার ধান্দায় তো তিনি ওখানে যোগ দেননি। আর একটা আন্তরিক স্বীকারোক্তি; প্রায় তিন দশকে তিনি ওই দল এবং দলের নেতার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেনও।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আদর্শ নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত গুম খুনের বিরুদ্ধে এক গোলটেবিল আলোচনায় আওয়ামী লীগ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছিলেন, ‘নৌকায় (আওয়ামী লীগ) তো আমিও ছিলাম। ড. কামাল হোসেন নৌকা থেকে নেমেছেন, সেই নৌকায় আমিও চড়েছি। বেকুব না হলে কেউ করে এ রকম!’

গত ১৩ জুলাই রাতে আসম আবদুর রবের বাড়িতে গিয়ে পুলিশের কাছে হেনস্তা হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই অনুষ্ঠানে মান্না আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ‘স্বরূপ’ বুঝতে তার বেশি সময় লাগেনি।

এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পর গতকাল সকালেই ফেইসবুকে পোষ্ট দিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ বিরোধিতার জন্য আলোচিত ক্ষমতাসীন দলটির সাবেক এই নেতা। মান্না লিখেছেন, ‘গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে গোলটেবিলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী সরকারের তথাকথিত উন্নয়নের সমালোচনা করে বলছিলেন, এমন উন্নয়ন হয়েছে যে এখন ঢাকা, চট্টগ্রামের রাস্তাও পানিতে ডুবে যায়। আমি তার কথার ফাঁকেই রসিকতা করে বললাম, এখন নৌকাই ভরসা। উনি সাথে সাথেই বললেন, আপনি তো সেই নৌকায় ছিলেন।’

তিনি আরও লিখেছেন. ‘আমি তখন কিছু বললাম না। আমার সময় বললাম, মি. সুব্রত চৌধুরীর নেতাও (ড. কামাল) নৌকায় ছিলেন। আমার চেয়ে বেশিদিন। তবে উনি জ্ঞানী মানুষ। আমার আগেই নেমে গেছিলেন। আমি বেকুব। বুঝিনি। ওনার ছেড়ে যাওয়া নৌকায় চড়েছিলাম।’

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে জন্ম নেওয়া জাসদে যুক্ত ছিলেন মান্না। জাসদ ভাঙার পর বাসদে যোগ দেন ডাকসুর দুইবারের নির্বাচিত এই ভিপি। নব্বইয়ের পর আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে মান্না দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ওই সময়ই আওয়ামী লীগ ছেড়েছিলেন দলটির দীর্ঘদিনের নেতা ড. কামাল হোসেন। আর মান্না ২০০৭-০৮ সালের জরুরি অবস্থার সময় ‘সংস্কারপন্থি ‘ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের পদ হারান।

এরপর নাগরিক ঐক্য গড়ে তুলে এর আহ্বায়ক হন মান্না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বর্তমান মেয়াদকালে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার আসামি হয়ে বছরখানেক কারাগারে কাটিয়ে আসা মান্না শনিবারের গোলটেবিল আলোচনায়ও আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচনা করেন।