জাতীয় স্লাইডার

এসডিজি অর্জন দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ছে : বিশ্বব্যাংক

প্রতীকি ছবি

জুমবাংলা ডেস্ক : বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু অতিদারিদ্র্য থেকে মুক্তির হার সাম্প্রতিক সময়ে কমে এসেছে। ফলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য অর্জন দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে দরিদ্রদের অনুকূলে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বিশ্বব্যাপী অতিদারিদ্র্যের হার ২০১৫ সালেই ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য বিমোচনে এটি একটি রেকর্ডও বটে। ২০১৩ সালে বিশ্বে অতিদারিদ্র্যের হার ছিল ১১ দশমিক ২০ শতাংশ। সর্বশেষ হিসাবে সরাবিশ্বে এখন ৭৩ কোটি ৫৯ লাখ অতিদরিদ্র মানুষ বাস করছেন। ২০১৩ সালে বিশ্বে অতিদরিদ্র মানুষ ছিল ৮০ কোটি ৪২ লাখ। দুই বছরে বিশ্বে অতিদরিদ্র মানুষ কমেছে ৬ কোটি ৮৩ লাখ। চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে এলেও এর গতি ধীর হয়ে আসছে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাস সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে। অঞ্চলটির ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ মানুষ এখন অতিদরিদ্র। সংখ্যার হিসাবে এর পরিমাণ ৪১ কোটি ৩৩ লাখ। ২০১৩ সালে সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে দরিদ্রের সংখ্যা ছিল ৪০ কোটি ৫১ লাখ। শতকরা হিসাবে দারিদ্র্যের হার সাড়ে ৪২ শতাংশ থেকে সামান্য কমলেও মোট সংখাটি বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংক সূত্রে আরো জানা গেছে, আগামী ১৭ অক্টোবর দারিদ্র্য বিমোচন দিবসে ‘দারিদ্র্য ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশে দারিদ্র্যের হার এখন ৩ শতাংশের কম। তবে বিশ্বের সব দেশ ২০৩০ সালে দারিদ্র্য বিমোচনের পর্যায়ে নেই।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, গত ২৫ বছরে শত কোটির বেশি মানুষ অতিদারিদ্র্যের বাধা অতিক্রম করেছে। বিশ্বে এখন চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের চাইতে কম। বর্তমান মানব প্রজন্মের এটা অনেক বড় একটা অর্জন। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূর করতে হলে আমাদের আরো অনেক বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগে মানব সম্পদ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এখনো দারিদ্র্যের সীমায় থাকা লোকজনের উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

 

জুমবাংলানিউজ/পিএম