slider জাতীয়

নেই মেয়র আনিসুল, আবারও দখলে সেই রাস্তা

মেয়র হওয়ার পরপরই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তেজগাঁও এলাকার যে রাস্তা বাস-ট্রাক চালকদের দখল থেকে উদ্ধার করেছিলেন আনিসুল হক, তার মৃত্যুর পরপরই আবার সেই রাস্তা দখল হয়ে গেছে। সন্ধ্যা হতে না হতেই তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড, মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের রাস্তা ও তেজগাঁও শিল্প এলাকার সড়কগুলো বাস-ট্রাক, পিকআপ-ভ্যান চালকদের দখলে চলে যাচ্ছে। আর এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ওই রোডে চলাচলকারী সাধারণ চালকরা।

রাতে সরেজমিনে ওই সড়কগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো রাস্তা জুড়ে পাশাপাশি দুই বা তিন সারি করে পার্কিং করা হয়েছে শতশত ট্রাক ও বাস। যতোটুকু খালি জায়গা রাখা হয়েছে তাতে অন্য একটি গাড়ি চলাচল করা খুবই ঝামেলার।

স্থানীয় একজন দোকানদার জানালেন, আনিসুল হক মারা যাওয়ার একদিন পর থেকেই এই রোড বাস-ট্রাক চালকদের দখলে চলে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বলার কেউ নেই। এই রোড যখন ফাঁকা ছিলো তখন খুব সহজেই গুলশানে যাওয়া যেতো। এখন এই বাস-ট্রাকগুলোর কারণে রাস্তার দুই প্রান্তে অস্বাভাবিক জ্যাম লেগে থাকে।

এছাড়া এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের পরিমানও বেড়ে গেছে বলে জানালেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার টহলরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এই পরিবহনগুলো সবার জন্যই সমস্যা তৈরি করছে। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে বলার কেউ নেই। বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা তাদের পক্ষে আছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর একই বছরের ২৯ নভেম্বর রাজধানীর অন্যতম তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা থেকে ফার্মগেটের রেলগেট পর্যন্ত সড়ক থেকে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন আনিসুল হক। ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাকে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে অবরুদ্ধও হতে হয়। তারপরও ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদে সফল হন তিনি। এরপর ওই সড়কের আইল্যান্ডে দৃষ্টিনন্দন গাছ লাগিয়ে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।