অন্যরকম খবর জাতীয় পজেটিভ বাংলাদেশ

‘এমুন মানুষও যে আছে, বিশ্বাস হয় না’

দুর্ঘটনায় অন্যের গাড়ির ক্ষতি করলে দোষী গাড়িচালক বা মালিক পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেওন লাগে। সাথে মাইর-ধর অপমান তো আছেই। কিন্তু আমার ঘটছে উল্টা ঘটনা।

 

ট্রাক দিয়া দামি প্যারাডো গাড়ির কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি করলাম। অথচ গাড়ির মালিক আমারে পোলাও-বিরানি খাওয়াইয়া উল্টা ট্যাকা দিছে। স্ত্রী-সন্তান গো লাইগ্যা নতুন জামা-কাপড়ও পাইছি। এমুন মানুষও যে আছে, না দেখলে বিশ্বাস করতাম না…।

 

পরম কৃতজ্ঞতা ভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা জোবায়দুল হক রাসেলের বদান্যতায় আপ্লুত ট্রাকচালক নুরু মিয়া।

 

নুরু মিয়া ইট-বালির ট্রাক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে। তবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার পাগলায়।

 

বিবার্তাকে তিনি জানান সেদিনকার সেই ঘটনার কথা। গত ১০ জুলাই রাজধানীর মৎস্য ভবনের মোড়ে তিনি দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। ট্রাক চালিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ধাক্কা দেন দামি একটি প্রাডো গাড়িকে। এতে গাড়িটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। গাড়ির মালিক আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক জোবায়দুল হক রাসেল। তবে দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না।

 

বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই সহকারী ও ট্রাকসহ নুরু মিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় রাসেলের সেগুনবাগিচার অফিসে। সেখানে নিজের দোষ স্বীকার করে যে কোনো শাস্তি মেনে নিতে রাজি হন নুরু মিয়া। ট্রাকের চাবি তুলে দেন জোবায়দুল হক রাসেলের হাতে। বলেন, ট্রাকটি বিক্রি করে তিনি ক্ষতিপূরণের টাকা নিতে পারেন।

 

নুরু মিয়ার এই সরল স্বীকারোক্তি ও আত্মসমর্পণ রাসেলের মনকে নাড়া দেয়। মোবাইল ফোনে তিনি কথা বলেন নুরুর স্ত্রীর সাথে। নুরুর স্ত্রী কাতর কণ্ঠে রাসেলকে জানান, তার স্বামী মানুষ হিসেবে খুবই ভালো। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পরিবারের প্রতি তিনি খুবই সদয়, আন্তরিক। একইসাথে পুরো বিষয়টি মীমাংসার ভার তিনি রাসেলের হাতে ছেড়ে দেন।

 

এরপরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। কোনো ক্ষতিপূরণ নয়; জোবায়দুল হক রাসেল তার কর্মচারীদেরকে নির্দেশ দেন, ট্রাকচালক নুরু মিয়া ও তার সহকারীদেরকে মোরগ পোলাও এনে খাওয়াতে। এরপর নুরুর স্ত্রী-সন্তানদের জন্য কিনে আনা হয় নতুন জামা-কাপড়। শুধু তাই নয়, বাবা-মা ও পরিবারের প্রতি নুরু মিয়ার দায়িত্ববোধে খুশি হয়ে রাসেল তার হাতে নগদ টাকাও তুলে দেন।

 

এ ব্যাপারে কথা হয় জোবায়দুল হক রাসেলের সাথে। তিনি বিবার্তাকে বলেন, বেচারা গরিব মানুষ। ওর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নিলে কষ্টের মধ্যে পড়তো। লোকটি সংসারের প্রতি খুব দায়িত্বশীল। তার স্ত্রীর সাথে কথা বলে জেনেছি, বাবা-মায়ের প্রতিও সে যত্নবান। তাই মায়া হলো।

 

তবে নুরু মিয়াকে কত টাকা উপহার দিয়েছেন, তা বলতে চাননি রাসেল।

 

 

তিনি জানান, তার ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটির মেরামতে ইতোমধ্যে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। আরো কাজ বাকি। তাতে তার দুঃখ নেই। কারণ ওই সময় গাড়িতে থাকলে তার নিজেরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারতো।

 

রাসেল বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে না দাঁড়ালে আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয় না। নুরুর মানবিক বোধ আমাকে প্রাণিত করেছে।



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন