বিনোদন

এবার হাবিব-সাফাত-কার্লোসকে নিয়ে গোপন তথ্য ফাঁস করলেন পিয়া বিপাশা

এ বছরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে বনানীর রেইনট্রি হোটেলের ধর্ষণের ঘটনা। এর সূত্র ধরে তিনটি ইস্যু নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই মিডিয়া পাড়ায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে, অভিযুক্ত সাফাতের সঙ্গে বন্ধুত্ব, পরীবাগে গৃহকর্মীকে হত্যাচেষ্টায় অভিযুক্ত আসামি সালেহ চৌধুরী ওরফে কার্লোসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গেও সম্পর্ক থাকার অভিযোগ মডেল অভিনেত্রী পিয়া বিপাশার বিরুদ্ধে।

এতদিন বিষয়গুলো নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটলেও এবার মুখ খুলেছেন পিয়া।

গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, সাফাত আমার স্রেফ বন্ধু। আর কার্লোসের সঙ্গে কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে হাবিব ওয়াহিদের সংসার ভাঙার সঙ্গেও আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

পিয়া আরো বলেন, আমি এতদিন ভারতে আর বাংলাদেশে মিডিয়ার নানা কাজে ব্যস্ত থাকায় কারো সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। তাই কেউ কিছু না জেনেই অনেক ভিত্তিহীন তথ্য পরিবেশন করেছেন। এসব মানুষের মনগড়া বানানো গল্প। এখন মনে করি সব খোলাসা করা প্রয়োজন।


কারণ, আমিও এই মিডিয়ারই একজন। আমাকে অনেকে চেনেন। কিন্তু এখন নেতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন বিষয়গুলো। এই তিন ইস্যুতে খোলাখুলি কথা বলতে গিয়ে পিয়া বিপাশা জানান, বনানীর রেইনট্রি হোটেলে তরুণী ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব অনেক আগের।

কিন্তু এই ঘটনার পর সাফাতের ওপর থেকে পিয়ার বন্ধুত্বের মর্যাদা নষ্ট হয়ে গেছে। এমন কথার ফাঁকে প্রসঙ্গ উঠে এলো এ মডেল অভিনেত্রীর সঙ্গে সাফাতের ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর ব্যাপারে। কিছুদিন আগে ওই ভিডিওতে দেখা যায় একটি বার-এ দুজনের অস্পষ্ট কথোপকথন।

এ বিষয়ে পিয়া বলেন, দেখুন আমি কয়েকমাস আগে ইন্ডিয়ায় যাই। সেখানে সাফাতের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কেউ একজন সেটি ভিডিও করে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়। আর সেখানে উল্লেখ করে, আমরা ডান্স করছিলাম। কিন্তু যারা স্পষ্ট চোখে ও স্বজ্ঞানে দেখেছেন, নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন এখানে কোনো ডান্স হয়নি। আমি দাঁড়িয়েছিলাম হাতে মোবাইল ছিল। আর পাশেই ছিল সাফাত। আর সেটাই ‘তিল থেকে তাল’ হলো।

এদিকে পরীবাগের গৃহকর্মীকে সাততলা থেকে ফেলে হত্যাচেষ্টায় অভিযুক্ত আসামি কার্লোসের ব্যাপারে পিয়া জানান, ওই আসামির সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ নেই তার। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে তার (কার্লোস) কোনো বন্ধুত্ব নেই। কিন্তু মিডিয়ায় এ নিয়ে অনেক সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। যা আমাকে হতবাক করেছে। আমার কোনো মন্তব্য নেয়ার প্রয়োজনবোধ করেনি কেউ। হ্যাঁ, একটি চলচ্চিত্রের ব্যাপারে তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু বাজে ধরনের আচরণ দেখে কার্লোসের সঙ্গে আর কখনো যোগাযোগ রাখিনি। অনেকে বলেছেন আমার সঙ্গে তার অনেক ঘনিষ্ঠ ছবি রয়েছে। কিন্তু সেসবের কোনো প্রমাণ নেই।

সবশেষে সংগীত তারকা হাবিব ওয়াহিদের সংসার ভাঙনের সঙ্গেও পিয়ার নাম জড়িয়েছে বলে নানান গুঞ্জন উঠেছে সর্বত্র। কারণ দিন কয়েক আগে হাবিবের সাবেক স্ত্রী রেহান ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন যেখানে তিনি উল্লেখ করেন, পিয়া বিপাশা তার (রেহানের) হৃদয় ভেঙেছেন। আর এমনই বক্তব্যে অনুমান করে বিভিন্ন পত্রপত্রিকাজুড়ে হাবিব-রেহানের সংসার ভাঙায় এই মডেল অভিনেত্রীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

এ ব্যাপারে পিয়া বলেন, রেহান আপু তার স্ট্যাটাসে কথাটি কেন লিখেছিলেন সেটা একমাত্র আমিই জানি। কিন্তু সেটা যাচাই না করে সবাই বুঝে নিয়েছেন আমার সঙ্গে হাবিব ভাইয়ের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। আমিও তাদের সংসার ভাঙার পেছনে জড়িত। এখন বিষয়টি সবার জানা উচিত। হাবিব ভাই আর রেহান আপুর বিচ্ছেদের আগেই তানজিন তিশার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ওঠে। সেটা শুনে আপু (রেহান) আমাকে অনুরোধ করেন যেন এ ব্যাপারে একটু খোঁজ নিয়ে তাকে জানাই। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে এটা তার পারিবারিক ব্যাপার। আমার জড়ানোটা উচিত হবে না। তাই কিছুদিন পর আমি রেহান আপুকে ব্লক করে দিই ফেসবুক থেকে। আর সে জন্যই আপু তার সামপ্রতিক স্ট্যাটাসে লিখেছেন আমি তাকে হার্ট করেছি। আর সেটার উল্টোটা বুঝে সবাই আমাকে ঘিরে নেতিবাচক সংবাদে মেতেছেন।

এদিকে কার্লোসের গৃহকর্মীকে হত্যাচেষ্টা ও হাবিব-রেহান ইস্যু পাশাপাশি এই দুই ঘটনার সময়ে পিয়া বিপাশার ফেসবুক আইডি বন্ধ ও মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার ফেসবুক আইডিটি হ্যাকড গত একমাস ধরে। আর দেশের বাইরে অবস্থান করায় মুঠোফোনটিও বন্ধ ছিল। যে কারণে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।