অপরাধ-দুর্নীতি

এবার সেই নয়ন বন্ডের মা যা বললেন

দেশজুড়ে এখন শুধু একটাই আলোচনা। স্ত্রীর সামনে স্বামীকে খু*ন। আর তাও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল শ খানেক লোক। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসল না। এ নিয়ে এরই মধ্যে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। রিফাত শরীফের (২২) মৃ*ত্যুর ঘটনায় বরগুনা জেলা জুড়ে চলছে শোকের মাতম।

রিফাত হ*ত্যাকাণ্ডের ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে সবার ফেসবুকের হোম পেজে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে হত্যাকাণ্ড পরবর্তী বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, কিভাবে গড়ে ওঠে ‘০০৭ গ্রুপ’, কি*লিং মিশন শেষে কোথায় গিয়েছিলো খুনিরা।

ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ০০৭ গ্রুপের সদস্যদের কথোপকথনের বেশ কিছু স্ক্রিনশট থেকে জানা গেছে, পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রুপের সবাই ঘটনার দিন সকাল ৯টায় বরগুনার কলেজ সড়কে অবস্থান নেয়। আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রিফাত শরীফের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তারা। ১০.২০ মিনিটে শুরু হয় তাদের মূল মিশন।

কলেজ গেট পার হওয়ার পর রিফাত শরীফকে ঘিরে ধরে ০০৭ গ্রুপের সদস্যরা। একের পর এক কিল-ঘুষি-লাথি দিতে দিতে নয়ন বন্ড ও সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরায়েজীর কাছে নিয়ে আসে। শুরুটা করে রিফাতই। হাতে থাকা ধা*রালো *দা দিয়ে কো*পাতে থাকে নয়নও। তাদের সঙ্গে ধ*স্তাধস্তি করে বারবার রিফাত শরীফকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি।

কি*লিং মিশন শেষে কলেজ রোড ধরে পশ্চিম দিকে চলে যায় হ*ত্যাকারীরা। উপজেলার দিঘির পাড়ের পশ্চিম দিকের সড়কে অবস্থান নেয় নয়ন ও রিফাত। বাকিরা নিজেদের মত সটকে পড়ে।

চাঞ্চল্যকর এ হ*ত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ন*য়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগম জানান, ওইদিন সকাল ১১টায় নয়ন তাকে ফোন করে। ফোন রিসিভ করেই তিনি বলেন, ‘এ ন*য়ন তুই নাকি কারে কোপাইছো। আহারে কার মায়ের কোল খালি করছো।’ ওই সময় নয়ন বলে, ‘কো*পাইছি ঠিক করছি, তুমি আমার জামা কাপড় দাও আর টাকা জোগার কর।’ এ কথা বলেই বাসার কাছকাছি একটি দোকানের পেছনে আসে। সেখান থেকে একটি ছেলেকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। নয়নের মা ওই ছেলের কাছে একটি টি-শার্ট ও প্যান্ট পাঠিয়ে দেয়। পরে আবারো নয়ন তাকে টাকা পাঠাতে বলে। এবার নয়নের মা নিজে গিয়ে ২০ হাজার টাকা দিয়ে আসেন। এরপর নয়ন ও রিফাত টাকা নিয়ে কেজি স্কুল সড়কের এক বন্ধুর বাড়িতে যায়। সেখানে তারা তিনজন বন্ধুর সাথে কথা বলে। এসময় নয়ন মোবাইল ভেঙে ফেলতে চাইলে একজন ফোনটি রেখে টাকা দিয়ে দেয়। এরপর নয়ন ও রিফাত তাদের আরেক ক্রোক হাওলাদার বাড়ির রিফাতের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে সঙ্গে দেখা করে। সেখান থেকে তারা আলাদা হয়ে যায়। নয়ন পুরাকাটা ফেরি পার হয়ে আমতলী গলাচিপা হয়ে পৌঁছে গেছে দশমিনায়। সেখানে বুধবার রাত কাটায় সে। এরপর নৌ ও সড়ক পথে ভেঙে ভেঙে চলে যায় উত্তরবঙ্গের জেলা শহর দিনাজপুর।

বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার দিনের প্রথমভাগ পর্যন্ত চেষ্টা চালায় হিলি বর্ডারের চোরাপথ ধরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু এরই মধ্যে সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি হওয়ায় পালাতে ব্যর্থ হয় সে। আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল নয়ন বন্ডের। নিরাপত্তার স্বার্থে এরপর সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে।