লাইফ স্টাইল

এবার শাড়ি দোকানিদের ব্যবসায় লালবাতি

‘আট বছর ধরে ব্যবসা করছি, এমন পরিস্থিতিতে কখনও পড়তে হয়নি। এবার মাথায় হাত। কর্মচারীদের বেতন দেব কীভাবে বুঝতে পারছি না। ভারতের ভিসা সহজ হওয়ার পরই ব্যবসায় লালবাতি জ্বলছে। এর প্রভাব পড়ছে ঈদ বাজারেও’ বলছিলেন রাজধানীর অভিজাত শপিংমল বসুন্ধরা সিটির ‘শাড়ি সেন্টার’র মালিক আব্দুল মালেক।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মুহূর্তের কথা। যে সময় শাড়ির ভাঁজ খুলে ক্রেতাদের দেখাতে ব্যস্ত থাকবেন, সেই সময় হাত গুটিয়ে বসে আছেন আব্দুল মালেক। সব মিলে ২০ জন কর্মচারী দোকানে। অধিকাংশেরই অলস সময় কাটছে ইফতারের পর। অথচ অন্য বছর এমনটি হয়নি।

বসুন্ধরায় ক্রেতা সংকট, তা বলা যাবে না। তিল ধারণের ঠাঁই নেই মলের ভেতর-বাইরে। তবে ক্রেতা নেই শাড়ির দোকানে। মলটির চতুর্থ তলায় শতাধিক শাড়ির দোকানে হাহাকার। এখানকার বেশিরভাগ শাড়িই ভারত থেকে আমদানি করা। ক্রেতাদের পথ আগলেও দোকানে প্রবেশ করাতে পারছেন না তারা। আবার কেউ কেউ অর্ধেক ছাড় দিয়েও ক্রেতা ভেড়াতে পারছেন না। সব মিলে এবারের ঈদ বাজারে হতাশার প্রহর গুণছেন বসুন্ধরার শাড়ি ব্যবসায়ীরা।

শাড়ি বাজারের এ মন্দাভাবের জন্য বহুবিদ কারণ দর্শালেন বিক্রেতারা। তবে এসব কারণের মধ্যে ভারতের ভিসা সহজ করাকেই প্রধানত দায়ী করলেন তারা। শাড়ি সেন্টারের মালিক আব্দুল মালেক বলেন, ‘গত বছর থেকেই শাড়ি বাজারে প্রভাব পড়েছে। ভারতে গিয়ে দেখেন সেখানকার হোটেলগুলোতে বাংলাদেশি ছাড়া আর কেউ নেই। পানির মতো সহজ হয়ে গেছে ভারতে যাওয়া। আর তাই আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লি, কলকাতা, বোম্বে থেকেই মার্কেট করছে বাংলাদেশিরা। সেখান থেকে আমরা এনে এখানে বিক্রি করি। কম দামে কিনতে পারলে তারা এখানে আসবে কেন?

‘কম দামে কিনে ক্রেতারা লাভবান হবেই’ এমনটি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরাও চাই ক্রেতারা লাভবান হোক। কিন্তু অর্থ তো সব বাইরে চলে যাচ্ছে। একেকজন ভ্রমণে গিয়ে ২০ থেকে ১০০ পিস শাড়ি নিয়ে আসছেন। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। ট্যাক্স কমালে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারব।

‘মনেরেখো’ শাড়ি সেন্টারের ম্যানেজার জুলফো। তিনি বলেন, রমজানের অর্ধেক সময় চলে গেলেও ব্যবসা জমে ওঠেনি। ভারতে গিয়ে মার্কেট করছেন বাংলাদেশিরা। এটি একটি কারণ। কিন্তু যারা দেশের বাজারে মার্কেট করবেন, তাদের মনের অবস্থাও ভালো নেই, পকেটের অবস্থাও ভালো নেই। ভ্যাট, ব্যাংক হিসাব নিয়ে ক্রেতারা অস্বস্তিতে আছেন। সব মিলে ভালো বলা যাবে না।

ভারতের ভিসা সহজ হওয়ায় বিক্রি ভালো নেই বলে মত দিলেন সিল্ক হাউজের বিক্রেতা বশির আহমেদও। তিনি বলেন, ক্রেতাদের যারা আসছেন, তাদের অনেকেই ভারতের সঙ্গে তুলনা করে কথা বলছেন। ক্রেতারা বলেন, ভারতে এই শাড়ি এত দাম, ওই শাড়ি অত দাম। তার মানে ক্রেতারা কোনো না কোনোভাবে ভারত থেকে শাড়ি কিনে আনছেন। সরকার ট্যাক্সের ব্যাপারে নজর না দিলে সামনে দোকান বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

জুমবাংলানিউজ/এসএস