slider জাতীয়

এবার মায়ের ভরণ পোষণ ব্যবস্থার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ

রাজধানীর গুলশানের অসহায় এক মায়ের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মহা পরিচালককে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের ডিজিকে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (১৩ নভেম্বর) হাই কোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী ডেপুর্টি অ্যার্টনি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

আদালতের অপর এক নির্দেশনায় রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষ এর (চেয়ারম্যান ও পরিচালক) এ্যাস্টেটকে বলা হয়েছে বনানীর ১১নং রোডের এম ব্লকের ৭৮নং বাড়িটি যাতে কেহ হস্তান্তর করতে না পারে বা মরগেজ না দিতে পারে।

সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একই সঙ্গে রুল জারি করেছেন আদালত। রুলে সাফাত আরা সোবহানের জীবন ও সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন।

একই সঙ্গে, অপর রুলে অসহায় মানুষদের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট সৃষ্টি করার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদেরকে উক্ত রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এক দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ এসব আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, স্বনামধন্য ডাক্তারের মৃত্যুর পর তার দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানেরা সৎ মা বলে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

অসহায় অবস্থায় রাস্তায় ঘোরা ফেরা করার পর ডাক্তারের স্ত্রী মহিলা পরিষদ ও আইন সালিস কেন্দ্রের সহযোগীতা চান।

মাহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে তার সন্তানদের ডেকে এনে কিছু দিনের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করেন। ভরন পোষণের জন্য দেওয়া ওই অর্থ শেষ হওয়ার পর থেকে তিনি আবার অসহায় ও নিরাপত্তাহীন রয়েছেন।

এ অবস্থায় ‘বৃদ্ধাশ্রমের এক মায়ের আকুতি’ ‘স্বামীর দেড়শ কোটি টাকার সম্পদ ডাক্তার ছেলের দখলে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করার পর এক দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ করা প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট করা হয়।

অসহায় বৃদ্ধাকে নিয়ে আদালত রুল সহ নির্দশনা দেন বলে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের জানান।