জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

এবার চট্টগ্রামের স্থানীয় সেজে বিদেশে যাবার চেষ্টা করছে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজারের টেকনাফ কিংবা উখিয়া নয়, এবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ চলে যাবার চেষ্টা করছে রোহিঙ্গারা। এমনকি দালালদের মাধ্যমে জেলার পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে জন্ম সনদও সংগ্রহ করছে তারা। গত এক সপ্তাহে চট্টগ্রামের বিভাগীয় এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট থেকে জাল নথিপত্রসহ ১২ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে নগরীর পাঁচলাইশস্থ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে পাসপোর্ট নিতে গিয়ে আটক হয়েছে সাতজন। একই সময় মনসুরাবাদস্থ বিভাগীয় কার্যালয় থেকে আরো পাঁচজনকে আটক করা হয়। আগেও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ চলে যাবার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ধারা আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। আটককৃত রোহিঙ্গাদের নথিপত্র রেখে দিয়ে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবু নোমান মো. জাকির হোসাইন বলেন, ‘এই কিছুদিন আগে আমরা প্রায় ৫ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। কিছুতেই যেন তারা পার্সপোর্ট না পায়। কর্মরত সবাইকে বলা হয়েছে তারা যেন খুব ভালোভাবে চেক করে। তিনটি ডেস্কেই বলে রাখা হয়েছে। আমরা কঠোরতার মধ্যই কাজ করছি।’

আগে অবস্থানগত সুবিধা নিয়ে রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা দাবি করে সেখানকার মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার করতো। কিন্তু বর্তমানে পুলিশ ভেরিফিকেশন নেয়ার ক্ষেত্রে কক্সবাজারের উপজেলাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি আরোপ করায় পদ্ধতি পাল্টিয়েছে তারা।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে তৎপর আমার কিছু কর্মী রয়েছে যারা আঞ্চলিক ভাষা বোঝে এবং কথা শুনলেই বুঝতে পারবে রোহিঙ্গাদের। এভাবেই আমরা রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করছি।’

তবে চট্টগ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট নেয়ার সুযোগ যাতে না পায়, সে জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ে দেয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) রেজাউল মাসুদ বলেন, ‘ভেরিফিকেশন কিন্তু অফিসে কাগজে-কলমে করার কিছু নেই। যাকে সন্দেহ লাগবে তার বাবা-মার কাগজও দেখে যাচাই করা হবে।’

বর্তমানে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ এবং উখিয়া উপজেলায় অন্তত ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। গত দু’দশকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার কওে বিভিন্ন দেশে চলে গেছে দু’লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

জুমবাংলানিউজ/এসওআর