অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয় স্লাইডার

এডিআরে সমন্বয়হীনতা, বিশেষ নজরদারিতে ৫ ব্যাংক

এম রহমান: এডি রেশিও (এডিআর) সমন্বয়ে দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কঠোর সতর্ক বার্তা দিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এডিআর বেশি থাকা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক করতে শুরু করেছে। এসব বৈঠকে ব্যাংকগুলোর গৃহীত পরিকল্পনা মূল্যায়নের পাশাপাশি দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। কর্মপরিকল্পনা বিশ্লেষণের পাশাপাশি সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে। বেশির ভাগ ব্যাংককে আগ্রাসী বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। চার-পাঁচটি ব্যাংককে বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এডি রেশিও সমন্বয়ে ব্যর্থ হলে সম্ভাব্য শাস্তির কথাও ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত দেশের অর্ধেকের বেশি ব্যাংকের এডিআর নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি রয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী বিনিয়োগের লাগাম টানতে ঋণ ও আমানতের অনুপাত বা এডি রেশিও (এডিআর) সীমা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৮৩ দশমিক ৫০ এবং ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৮৯ শতাংশ এডিআর নির্ধারণ করে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে নতুন এডিআর সমন্বয়ের সময় বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এডিআর বেশি থাকা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি গত বছর পুরো ব্যাংকিং খাতকেই নাড়িয়ে দেয়। এখন পর্যন্ত ব্যাংকটির এডিআর ১০৫ শতাংশের বেশি রয়েছে। অন্য নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকেরও এডিআর নির্ধারিত সীমার বেশি রয়েছে। এছাড়া এডি রেশিও সীমাতিরিক্ত রয়েছে কয়েকটি সাধারণ ধারার বেসরকারি ব্যাংকের ইসলামী উইংয়ের।

এদিকে এডিআর সমন্বয়ে অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় এগিয়ে আছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এ প্রসঙ্গে আলাপকালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিস এ খান জুমবাংলাকে বলেন, সতর্কতার সঙ্গে আমাদের ব্যাংকের এডি রেশিও কমিয়ে আনা হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির চেয়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি অনেক কম। তার পরও আগামী মার্চের মধ্যেই এডিআর সীমা বিধিসম্মত মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছি। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এডিআর সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকগুলো সুর্নিদিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিনিয়োগের লাগাম টেনে আমানত বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু ঋণ ও আমানতের সুদহার নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত পুরো পরিকল্পনাকেই পাল্টে দিচ্ছে। হঠাৎ করেই সুদহার কমানোর ঘোষণায় আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে সঞ্চয়পত্র, সমবায় সমিতিসহ মুনাফা বেশি এমন খাতে বিনিয়োগ করা শুরু করেছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নির্ধারিত সময়ে এডিআর সমন্বয় দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন তারা।

জুমবাংলানিউজ/পিএম