মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

এক নজরে দেখে নিন মমতা দিদির অজানা কিছু গল্প

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নানা মহলে হাজারো গল্প রয়েছে। একার হাতে দোর্দণ্ডপ্রতাপ বাম শাসনের ইতি ঘটিয়ে ৩৪ বছর পরে বাংলার মাটিতে ঘাসফুল ফুটিয়ে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন বাম রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে, নিজের দল তৈরি করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা। সেই লড়াই সম্পর্কে সকলেই কমবেশি জানেন। বাংলার অগ্নিকন্যা নামে পরিচিত মমতাকে নিয়ে রাজনীতির বাইরেও জানার অনেক কিছু রয়েছে। তার অজানা দিকগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক একনজরে।

দিদির শাড়ি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু ধনিয়াখালি শাড়ি পরেন। এই বিশেষ শাড়ি হুগলির ধনিয়াখালি ব্লকে তৈরি হয়। অনেক রঙের পাওয়া গেলেও দিদি শুধু সরু পাড় দেওয়া সাদা শাড়িই পরতে পছন্দ করেন।

দিদির চটি
দিদি মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে যেমন ছিলেন, পরেও তেমনই রয়েছেন। হাওয়াই চটি পরেই তিনি সব জায়গায় যাতায়াত করেন। সংসদে হোক অথবা ভ্যাটিকান সিটি, সর্বত্রই মমতার অবাধ বিচরণ হাওয়াই চটিতে। তবে তিনি শুধুমাত্র সাদা চটি ও নীল স্ট্রিপের চটি পরেন। অন্য কোনও রঙের স্ট্রিপ তার পছন্দ নয়।

দিদির হাঁটা
এই বয়সেও হেঁটে মাইলের পর মাইল চলে যেতে পারেন মমতা। মিছিল হোক অথবা অন্য কোনও কারণ, মমতার সঙ্গে হাঁটার স্পিডে পেরে ওঠেন না হাঁটুর বয়সীরা। প্রতিদিন ট্রেডমিলে ৫-৬ কিলোমিটার হাঁটেন মমতা। এমনকি বিধানসভার অলিন্দেও হাঁটতে দেখা যায় মমতাকে। দলের ঘনিষ্টরা বলেন, দিদি একটানা ১০ কিলোমিটার হাঁটতে পারে।

দিদির আঁকা
দিদি আঁকতে ভালোবাসেন। মাত্র কয়েকঘণ্টায় বড় বড় আঁকা তিনি সম্পূর্ণ করতে পারেন। ছবি এঁকে তা বিক্রি করে দলের সংগঠনের জন্য টাকা জমান মমতা। এছাড়া সেই টাকার একটা অংশ চ্যারিটিতে যায়।

দিদির গান
গান গাইতে ভালোবাসেন মমতা। প্রশিক্ষিত গায়িকা না হলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ভীষণ পছন্দ দিদির। বিভিন্ন সভায়, এমনকি সরকারি সভাতেও দিদি গান গেয়ে ওঠেন। ট্রাফিক সিগন্যালে রবীন্দ্র সঙ্গীত বাজানো বাধ্যতামূলক করেছেন মমতা।

কনভয় যাত্রা
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে সকলে যখন কনভয়ে চেপে লালবাতি লাগানো গাড়িতে যাতায়াত করেন, সেখানে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মমতা নিজের পুরনো স্যান্ট্রো গাড়িতেই চেপে চলেছেন। সঙ্গে একেবারেই বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী রাখেন না। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও বাইকে চেপে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি।

খাবারে পছন্দ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তেলমশলা দেওয়া জিনিস একেবারেই খেতে পছন্দ করেন না। তবে আলুর চপ দেখলে নিজেকে সামলাতে পারেন না। প্রচুর জল খান ও মুড়িু, চা ও চকোলেটও দিদির প্রিয় খাবারে তালিকায় পড়ে।

প্রিয় ঘুরতে যাওয়ার জায়গা
প্রকৃতি ভালোবাসেন তৃণমূল নেত্রী। আর তাই সময় পেলেই ছুটে যান জঙ্গলমহল অথবা উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায়। উত্তরবঙ্গে কয়েকমাস পরপরই যান মুখ্যমন্ত্রী। তবে তা প্রশাসনিক কাজের জন্য। জঙ্গলমহলেও সেই একই কাজে যান। তাই দুই জায়গাই প্রাণের কাছাকাছি মমতার।

রাজনীতিতে আসার আগে
রাজনীতিতে হাত পাকানোর আগে দক্ষিণ কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন একেবারেই সাধারণ ছিল। আর পাঁচটা মেয়ের মতোই প্রথমে স্টেনোগ্রাফারের কাজ, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকার কাজ, গৃহশিক্ষকতা এমনকি সেলসের কাজও করেছেন মমতা। তারপরই রাজনীতিতে প্রবেশ এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পর বাকিটা ইতিহাস। আর ক্ষমতায় আর পরও রয়েছেন সাধারণ হয়ে। একটুও বদলাননি মমতা।

জুমবাংলানিউজ/আর