আইন-আদালত জাতীয়

এক ধনীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, রূপকথার গল্পকেও হার মানায়

জীবনের শুরুতে ছিলেন মিষ্টির দোকানের মালিক। পরবর্তীতে মানি এক্সচেঞ্জ ও শেয়ার ব্যবসা করে গাড়ি, বাড়ি ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন আলী সুইটসের স্বত্বাধিকারী শেখ মোহাম্মদ আলী ওরফে এস কে মোহাম্মদ আলী। দুদকের কাছে স্বেচ্ছায় ৩০ কোটি ৭৮ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৩ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব দাখিল করেন তিনি। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে মোট ৭১ কোটি ৭০ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯৮ টাকার সম্পদের হিসাব বেরিয়ে আসে।

থলের বিড়াল বেরিয়ে আসায় দুদকের উপ-পরিচালক জালালউদ্দিন আহম্মদ সোমবার রাজধানীর রমনা থানায় শেখ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

দুদক জানায়, ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে এস কে মোহাম্মদ আলীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ বস্তা মুদ্রা, ৬১ কেজি ওজনের ৫২৮টি সোনার বার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ওই সময় বালিশের কভার, সোফার কুশনের ভেতর, জাজিম-তোশকের নিচে, আলমারি ও বাসার ফলস সিলিংয়ের ওপর এসব মুদ্রা ও সোনার বার পাওয়া যায়। সে সময় গ্রেফতার করা হয় মোহাম্মদ আলীকে। পরবর্তীতে জামিন পান। এরপর চলতি বছরের ১৯ জুন মোহাম্মদ আলীর সম্পদের বিবরণ চেয়ে নোটিশ দেয় দুদক। গত ৩১ আগস্ট সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন মোহাম্মদ আলী।

দুদক অনুসন্ধানে শেখ মোহাম্মদ আলীর বেশ কিছু অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায়। সেগুলো হল; রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে ৩০ লাখ টাকার ১০ কাঠা জমি, সিলেট শহরে ৯৫ লাখ ১১ হাজার ৩৭৫ টাকা মূল্যের ছয়তলা বাড়ি, ৬১ দশমিক ৫৩৮ কেজি স্বর্ণ, যার মূল্য ৩০ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা, সৌদি রিয়াল তিন কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও দেশি মুদ্রায় পাঁচ কোটি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ।

উল্লেখ্য, শেখ মোহাম্মদ আলী ওরফে এস কে মোহাম্মদ আলী ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে মিষ্টির ব্যবসা দিয়ে জীবননির্বাহ শুরু করেন। বর্তমানে সেখানে ফুলকলি নামে মিষ্টির ব্যবসা করছেন। সেকেন্ডারি মার্কেটে তার শেয়ার ব্যবসা আছে এবং স্পিড মানি এক্সচেঞ্জার নামে তার মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসাও রয়েছে।