জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ শিক্ষা

একটানা নয়দিনের অনশনে নারী শিক্ষকসহ অসুস্থ ২৬

জুমবাংলা ডেস্ক : চাকরি স্থায়ী ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে শিক্ষকদের চলমান অনশনে ২৬ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জন নারী শিক্ষকও রয়েছেন। ‘বাংলাদেশ অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষক (এসিটি) অ্যাসোসিয়েশন’ গত নয়দিন ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই অনশন করছেন।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ এসিটি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৌশিক চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমাদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক। এরইমধ্যে ২৬ জন শিক্ষক অনশনের কারণে অসুস্থ হয়ে গেছেন, অনেককেই হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর বা আশ্বাস পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসিটি শিক্ষকদের সবাই অত্যন্ত মেধাবী। স্বনামধন্য বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত, শিক্ষকতাকেই তারা পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতে এসিটির শিক্ষকেরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব মেধাবী শিক্ষকদের প্রতি সরকারের অবহেলা খুব দুঃখজনক।’

সংগঠনের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই অনশন শান্তিপূর্ণ ভাবে চালিয়ে যাবো। এরইমধ্যে সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম ও ঢাকা মহানগর বেসরকারি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ আমাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আরেফিন সিদ্দীকির সঙ্গেও আমরা দেখা করেছি, ওনারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। এখন আমরা আশা করছি সরকার আমাদের দাবির প্রতি সুদৃষ্টি দেবেন।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনশনরত শিক্ষকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্যালাইনসহ প্রেসক্লাবের সামনে শুয়ে আছেন। তাদের ঘিরে কয়েকজন শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ‘চাকরি স্থায়ী করে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরিয়ে দিন, নইলে জীবন নিয়ে নিন’ ও জাতীয় পতাকা জড়িয়ে ‘হয় নোটিশ দিন, না হয় বিষ দিন’ স্লোগান লিখে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, মানসম্মত শিক্ষকের ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যে সরকার ২০১৫ সালে সেকায়েপ দেশের ২৫০টি উপজেলার ২ হাজার ১০০ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে মেধাবী ও নিজ জেলার সর্বোচ্চ নাম্বারধারী ৫ হাজার ২০০ জন তরুণকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ওই নিয়োগে মডেল শিক্ষক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি প্রকল্প শেষে ম্যানুয়ালের ৩৬নং ধারায় চাকরি স্থায়ী করার কথাও উল্লেখ ছিলো। প্রকল্প শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি স্থায়ী করতে বিষয়ে চিঠি পাঠানোর ১৪ মাস পার হয়ে গেলেও সেটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

ফলে ১৪ মাস ধরে বিনা বেতনে ৩৭ লাখ ২০ হাজার ৯৪টি অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়েছে এসিটি শিক্ষকদের। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় এসিটির শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন করে ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিনা বেতনে পাঠদানের ফলে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন ও অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন এসিটির শিক্ষকরা।

জুমবাংলানিউজ/এসএস