slider জাতীয়

একই সুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি !

একে আজাদঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে এবার একই সুরে কথা বললেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মহাসচিব। খালেদা জিয়াকে প্রস্তাবের বিষয়ে এমনই বক্তব্য দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরও একই কথা বললেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতা প্রস্তাব তারা দুজনেই প্রত্যাখান করলেন।

একটি অনলাইন পোর্টালে খালেদা জিয়াকে সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতার প্রস্তাব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তারা এ প্রতিক্রিয়া জানান।
সমঝোতা প্রস্তাব দেয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে ভিত্তিহীন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কোর্ট খালেদা জিয়াকে দণ্ড দিয়েছে, সেই দণ্ডেও সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই, ছিল না। এর সঙ্গে কোনো সমঝোতার বিষয় নেই।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বরে আগের দিন আগুনে পুড়ে যাওয়া বস্তি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

গত ৭ মার্চ কারাগারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সাত নেতার সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেদিন সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন ফখরুল।

ওই পত্রিকার ভাষ্যমতে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে চলে যাওয়া, তার পরিবারের কারও নির্বাচনে অংশ না নেয়া, বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপির ভোটে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের প্রস্তাব দেন ফখরুল। আর এটা মেনে নিলে সরকারও খালেদার জামিনে বাধা দেবে না, বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা স্থগিত থাকবে এবং খালেদা জিয়ার সব মামলায় সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনায় এই খবরকে হাস্যকর বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘পত্র পত্রিকাতে খবর দেখি আমরা নাকি কারাগারে সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা প্রস্তাব নিয়ে গেছি। হাসি পায়। আপনারা কোথায় পান এমন তথ্য?’।

বিএনপির সঙ্গে সরকারের কোনো ধরনের সমঝোতার চেষ্টা হচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদেরও বিষয়টিকে নাকচ করে বলেন, ‘আমরা আদালতের ভারডিক্টকে (রায়) বিশ্বাস করি।…আমি এটাও স্পষ্ট করে বলতে চাই, গতকাল আদালত খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দিয়েছে, এটাতেও সরকারের কোন প্রভাব বা হস্তক্ষেপ নেই। সেটা স্বাভাবিক নিয়মে যেভাবে চলছে, আজকে দেশে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা এবং আদালতের প্রতি জনগণের যে শ্রদ্ধা সেটা চলছে।’

এই খবরটিকে হাস্যকর বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘পত্র পত্রিকাতে খবর দেখি আমরা নাকি কারাগারে সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা প্রস্তাব নিয়ে গেছি। হাসি পায়। আপনারা কোথায় পান এমন তথ্য?’ তিনি এসময় অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখতে সরকার ছল চাতুরি করছে।

ফখরুল আরো বলেন, ‘সরকার ছলছাতুরি করে বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখতে চায়। কিসের ভয়? জনগণকে এত ভয় পান আপনারা (সরকার)! তিনি যদি মুক্তি পান তাহলে জনগণের স্রোতে আপনাদের ক্ষমতার মসনদ ভেসে যাবে।’

সোমবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট বিএনপি চেয়ারপারসনকে চার মাসে জন্য জামিন দেয়ার দিনই কুমিল্লার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ এসেছে। পাশাপাশি মঙ্গলবার হাইকোর্টের জামিনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুদক।

তবে খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা যাবে না মন্তব্য করে বিএনপি বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করা হবে।’

বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে যাবে জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এটাই একমাত্র পথ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে আমাদের যেতে হবে। এভাবেই জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের স্বার্থে দুই দলকে আচরণের পারিবর্তন করতে হবে। দুই দলকে সমঝোতায় আসতে হবে। বঙ্গবন্ধু ১৬ থেকে ২৪ মার্চ ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছেন, আলোচানা-সমঝোতা হলো রাজনৈতিক শিষ্টাচার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন বিষয়টি যাই হোক দুই দল সহজে সমঝোতায় পেীছাবে না, তারা দেশের চাইতে নিজেদের আখের গোছানোর জন্য ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করেন। সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি যাই হোক বৃহত্তর স্বার্থে দুই দলকে সহনীয় হতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সমঝোতার বলটি সরকারের হাতে ।