খেলাধুলা

এই কারণে বেঁচে গেছেন টাইগাররা

নিউজিল্যান্ডে সফররত টাইগারদের বেলা দেড়টা নাগাদ আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু, সংবাদ সম্মেলনটা শেষ হতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাই বেলা ১টা ৪০ নাগাদ সংবাদ সম্মেলন শেষ হতেই মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশে বাসে উঠেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট দল।

ক্রিকেটারদের বহনকারী বাসটি মসজিদের সামনে পৌঁছেও গিয়েছিল। বাস থেকে নেমে মুশফিকরা মসজিদের দিকেই যাচ্ছিলেন। সেখানেই জুমার নামাজে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাদের। ঠিক তখনই নজরে আসে ভয়ঙ্কর দৃশ্য। মধ্য বয়সের এক মহিলা রক্তাক্ত অবস্থায় মসজিদের ভিতর থেকে টলোমলো পায়ে বেরিয়ে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলেন। ক্রিকেটাররা তখনও বুঝতে পারেননি আসলে কী ঘটছে ভিতরে।

তখন একজন চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘মসজিদের ভিতর গুলি চলছে’। তিনি জানান, তাঁর গাড়িতেও লেগেছে গুলি। বেগতিক বুঝে বাসে উঠে পড়েন টাইগাররা। ততক্ষণে পুলিশ গোটা রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বেশ কিছুক্ষণ বাসেই বসে থাকতে হয় তামিম, মুশফিকুরদের। এ ভাবে বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর নিরাপদে মাঠে ফিরে আসেন তারা। বর্তমানে তারা হোটেলে অবস্থান করছেন।

দলের তরফে জানানো হয়েছে, এ দিন সকালে লিটন দাস ও নইম হাসান ছাড়া দলের সবাই ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলে ওভাল মাঠে অনুশীলনে করেন। সেখান থেকেই আল নুর মসজিদে যাচ্ছিলেন তারা।

এ দিনের হামলার পরই টুইট করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। এই ঘটনাকে ‘ভয়ের অভিজ্ঞতা’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি আরও লেখেন, ‘পুরো দলই বন্দুকবাজের হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। সবাই আমাদের জন্য প্রার্থনা করবেন।’

সামনে থেকে এমন ঘটনা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি দলের অন্যতম সদস্য মুশফিকুর রহিম। মাঠে ফিরেও আতঙ্ক কাটছিল না তার।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, ‘দলের বেশির ভাগ সদস্য মসজিদে যাওয়ার জন্য বাসে ছিলেন। মসজিদে ঢোকার মুহূর্তে হামলার ঘটনাটি ঘটে। আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছেন।’

এদিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে ভয়াবহ হামলায় ২৭ জন নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট দলের মধ্যেকার শেষ টেস্ট ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে। শনিবার এই ক্রাইস্টচার্চ শহরের এক মাঠেই ওই খেলাটি হওয়ার কথা ছিলো।

জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি