ঢাকা

ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যা

রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম থানার দক্ষিণ বিশিল এলাকায় রশিতে ঝুলে এক দম্পতি আত্মহত্যা করেছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় মোতাহার হোসেন (৪০) ও শিউলি আক্তার (৩৫) নামে ওই দম্পতির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার বারহাট্টায়।

পুলিশ বলছে, ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে ওই দম্পতির মধ্যে কয়েকদিন ধরেই ঝগড়া হচ্ছিল। এর জেরে প্রথমে স্ত্রী এবং পরে একই রশিতে ঝুলে স্বামী আত্মহত্যা করেন।

দারুস সালাম থানার এসআই শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুগান্তরকে বলেন, মোতাহার মিরপুর এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। স্থানীয় একটি সমিতি থেকে তিনি ঋণ নেন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় প্রায়ই বাসায় সমিতির লোকজন এসে তাগাদা দিত। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই ঝগড়া হচ্ছিল। শনিবার সারাদিন তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরে প্রথমে স্ত্রী এবং পরে স্বামী আত্মহত্যা করেন।

তবে মোতাহার কত টাকা ঋণ নিয়েছিলেন বা কাদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে এসআই জানাতে পারেননি।

পুলিশ জানায়, বিকেল পাঁচটার দিকে শিউলি গলায় রশি পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। শিউলিকে ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে নিচে নামিয়ে আনেন মোতাহার। পরীক্ষা করে দেখেন শিউলি মারা গেছেন। পরে ঘরের দরজা লাগিয়ে দেন মোতাহার। ওই রশিতে ঝুলে তিনিও আত্মহত্যা করেন। এ সময় এই দম্পতির পাঁচ বছরের ছেলে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে থাকে। পরে প্রতিবেশিরা পুলিশকে খবর দিলে সন্ধ্যায় দক্ষিণ বিশিলের ১২৩/ডি নম্বর বাসার নিচতলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাট থেকে দম্পতির লাশ উদ্ধার করা হয়।

দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, এই দম্পতির তিন সন্তান। বড় ছেলের বয়স ১৬ বছর। ঘটনার সময় সে বাসায় ছিল না। পাঁচ বছরের শিশুটি ঘটনাটি দেখেছে। তাকে তো আর ওইভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় না। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই দম্পতির মধ্যে কলহ ছিল। এর জেরে হাতাহাতিও হয়েছিল। ধারণা করছি, অভিমান করে স্ত্রী প্রথমে আত্মহত্যা করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে হয়তো স্বামীও আত্মহত্যা করেছেন।

ওসি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এই দম্পতি শুক্রবার আশুলিয়ার কাঠগড়ায় তাদের এক আত্মীয়ের বাসায় যান। সেখানেও ঋণের টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ হয়। শনিবার সকালে কাঠগড়ার ওই আত্মীয়ের বাসায় ঝগড়া করে দারুস সালামের বাসায় ফেরেন তারা। সারাদিন তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে দুজনই আত্মহত্যা করেন।

Add Comment

Click here to post a comment