আন্তর্জাতিক

উত্তর কোরিয়া ‘বড় সমস্যায়’ পড়বে : ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গুয়ামে কোনো ধরণের হামলা চালালে উত্তর কোরিয়াকে বড় সমস্যায় পড়তে হবে। নিউজার্সির বেডমিনিস্টার গলফ কোর্স থেকে দেয়া বক্তব্যে ট্রাম্প আশ্বস্ত করেছেন, ‘গুয়াম বেশ নিরাপত্তা বলয়ে রয়েছে, আমাকে বিশ্বাস করুন।’
এসময় ট্রাম্প আরো জানান, উত্তর কোরিয়াকে উচিত শিক্ষা দিতে দেশটির ওপর সবচেয়ে কঠোর অবরোধ আরোপেরও চিন্তা করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা উত্তর কোরিয়াকে সবদিক থেকে কোণঠাসা করে দিতে চাই।’ অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার এইসব তপ্ত কথার লড়াইকে ব্যাপক উদ্বেগের সঙ্গে নিচ্ছেন বিশ্বনেতারা। তারা আশঙ্কা করছেন এই কথার লড়াই পরিস্থিতিকে আরো অশান্ত করে তুলবে।
একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশ্যে বাক্যবাণ অব্যাহত রেখেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উপর সামরিক হামলা চালানোর ব্যাপারে আবারো পিয়ংইয়ংকে সতর্ক করে দিয়েছেন। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ‘গুলি ভরা বন্দুকের মতই সতর্ক আছে’ এমন বক্তব্য দিয়ে বেশ একটা শোরগোল ফেলে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যে বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতিকে একটি পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন।
এবার নিউজার্সির ওই সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি তার আগের ওই বক্তব্যেও অটল রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব সতর্কতার সাথে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। আমি আশা করছি তারা (উত্তর কোরিয়া) আমার কথার মাধ্যমে পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পূর্ণ রূপে অনুধাবন করতে পেরেছে। আমাকে বিশ্বাস করুন, এই লোক যা করছে, তাতে সে পার পাবে না।’
দুই দেশের এই কথার লড়াইয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর নেতারা। রাশিয়া মনে করছে, এর ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ‘পরিস্থিতি যখন এমন দাঁড়ায় যে যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটবে, তখন আমি মনে করি যে পরিস্থিতি শান্ত করবার প্রথম উদ্যোগটা নিতে হয় তাকে যিনি শক্তিশালী এবং চটপটে।’ ল্যাভরভ স্পষ্টতই এখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করছেন শান্তি স্থাপনের প্রথম পদক্ষেপ নেবার জন্য। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলছেন, তিনি মনে করেন যে তীব্র কথার লড়াই চলছে সেটি তার দৃষ্টিতে ভুল জবাব। উভয় পক্ষকেই শব্দ এবং বাক্য চয়নের ব্যাপারে সতর্ক হবার আহ্বান জানিয়েছে চীনও। সূত্র: বিবিসি ও সিএনএন।
Advertisements