বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ই-বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে মায়ের দুধ : সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই অটিস্টিক শিশুর জন্মহার বেড়ে যাওয়ার জন্য অন্যতম প্রধান কারণ অনিরাপদ ই-বর্জ্য। এই ই-বর্জ্য মায়ের দুধকেও দূষিত করে শিশুর জন্য বড় বিপদ ডেকে আনছে। বাংলাদেশেও ই-বর্জ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। ২০১৮ সালে ই-বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ মেট্রিক টন। এই ই-বর্জ্যের ৯০ শতাংশই নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতায় আসছে না। ফলে এটা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে এ সব তথ্য দেওয়া হয়। সেমিনারে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকার ই-বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সেমিনারে মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সংগঠন বিএমপিআই-র সভাপতি ই-বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনার জন্য খুব শিগগিরই রাজধানীর বড় শপিং সেন্টারগুলোতে অব্যবহৃত হ্যান্ডসেট ড্রপ পয়েন্ট স্থাপনের ঘোষণা দেন। এর বিনিময়ে মূল্য দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

টেলিযোগাযোগ খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ-টিআরএনবি আয়োজিত এ সেমিনারে তিনটি তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে টিআরএনবির পক্ষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান কমোডর মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক এবং বিএমপিআই-এর যুগ্ম সম্পাদক মো. মেজবাহউদ্দিন পৃথক তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

টিআরএনবি সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সজলের সভাপতিত্বে মন্ত্রী ছাড়াও আরও বক্তব্য রাখেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান জহুরুল হক, বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ, বিএমপিআই সভাপতি রুহুল আলম মাহবুব মানিক, রবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রওশন মমতাজ, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এন এইচ এন্টারপ্রাইজের এমডি নাজমুল হায়দার এবং আজিজু ই-ওয়েস্ট রিসাইকিলিং এর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ।

তিনটি প্রবন্ধেই দেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধির কথা বলা হয়। টিআরএনবি’র মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ই-বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৮ সালে এসে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। ২০২৫ সাল নাগাদ এই ই-বর্জ্যের পরিমাণ ১০ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। এই বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্যের মধ্যে ৯০ শতাংশই ব্যবস্থাপনার বাইরে থাকছে।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে দ্রুত অগ্রযাত্রার কারণে দেশে ডিজিটাল ডিভাইস এবং যন্ত্রপাতির ব্যবহার দ্রুতহারে বেড়েছে। এ কারণে ই-বর্জ্যের পরিমাণও বাড়ছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা হলে ই-বর্জ্য ক্ষতির কারণ হবে না।

বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান বলেন, বিটিআরসি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একাধিক কোম্পানিকে এ লক্ষ্যে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। দু’টি কোম্পানি এই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কাজ করছে। তবে সেটা খুব বড় পরিসরে নয়।

বিএমপিআই সভাপতি বলেন, মোবাইল ফোন আমদানিকারকরা এই ই-বর্জ্য নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। দেশের স্বার্থে ও পরিবেশ রক্ষায় তারা ভূমিকা রাখতে চান।

রবি’র সিইও বলেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে বর্তমানে অটিস্টিক শিশুর জন্মহার বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ই-বর্জ্য। সচেতনতা না থাকায় ই-বর্জ্য মায়ের দুধকেও দূষিত করে শিশুর জন্য বড় বিপদ ডেকে আনছে। এটা থেকে উত্তরণে এখনই আমাদের কিছু করা দরকার।

জুমবাংলানিউজ/এএসএমওআই