slider আন্তর্জাতিক

ইসরাইল ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে যাচ্ছে, শুরু হয়েছে হামলা

বিশ্ব জনমতকে উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক তরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ২৪ ঘন্টা পার না হতেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দুটি নিরাপত্তা চৌকির ওপর বিমান ও ট্যাংক নিয়ে হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। এ ঘটনায় বিশ্ববাসীকে আরো বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

এদিকে ট্রাম্পের এক তরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সারা বিশ্ব। এ ঘটনার প্রতিবাদে নিন্দার ঝড় বইছে বিশ্বজুড়ে। স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটে নি। বরাবরের মতোই ইসরাইল দাবি করেছে, গাজা থেকে ছোঁড়া রকেটের জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

গাজা থেকে এ ধরনের হামলার জন্য ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে দায়ী করেছে ইসরাইল। তবে হামাস এ সম্পর্কে এখনো কোনো বক্তব্য দেয় নি।

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী বলে স্বীকৃতি দেয়ার পর এই হামলা হলো।

ট্রাম্পের ঘোষণার আগে ও পরে সারা বিশ্ব থেকে সতর্ক করা হয়েছে, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে ফিলিস্তিনে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা দেখা দেবে। তবে সব বিরোধিতা উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। পাশাপাশি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস বায়তুল মুকাদ্দাসে সরিয়ে নেয়ার কথাও বলেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে সারা বিশ্ব
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে উত্তাল করে তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছে মুসলিম বিশ্ব। আন্তর্জাতিক মহলে হচ্ছে কড়া সমালোচনা। অনেক স্থানে পোড়ানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। বিক্ষোভ হয়েছে ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের বিক্ষোভে। ইন্তিফাদা ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনের যোদ্ধা গোষ্ঠী হামাস।

আজ শুক্রবারকে ক্ষোভ দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। হতাশা প্রকাশ করছেন বিশ্বের রাজনৈতিক বোদ্ধারা। ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তুরস্ক, জর্ডান, সৌদি আরব, বৃটেন, জার্মানি, ফ্রান্স সহ বিভিন্ন দেশ। প্রতিবাদ জানাতে ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরাক। তুরস্ক বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিবলয়ের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে সৌদি আরব ‘অহেতুক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছে। এ বিষয়ে কড়া নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরবের রয়েল কোর্ট। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত গভীর হতাশাজনক। সৌদি রয়েল কোর্ট বলেছে, শান্তি প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তারা সে অবস্থা থেকে দৃশ্যত সরে এসেছে। জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যে ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখছিল তাও লঙ্ঘন করা হয়েছে।

উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুঁতেরা। তিনি বলেছেন, এটা হলো গভীর হতাশার একটি মুহূর্ত। তিনি আরো বলেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র মুখপাত্র হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনো সহায়ক হবে না। ওদিকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিষয়ে শুক্রবারই জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। শুধু আরব ও মুসলিম দুনিয়াই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশও ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে। এরই মধ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ প্রতিবাদ হয়েছে।

ওদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক সমস্ত মুসলিমকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, যেকোনো স্থানের মুসলিমদের এটা পরিষ্কার করে জানিয়ে দিতে হবে যে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণার কড়া নিন্দা জানাচ্ছি। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন। তারা উভয়েই বলেছেন, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে তাদের সমর্থন নেই। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক ফেডেরিকা মঘেরিনি।

ওআইসি’র জরুরি বৈঠক আহ্বান
আরব লীগের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে জর্ডান ও ফিলিস্তিন। বুধবারই তারা এমন আহ্বান জানায়। এতে বলা হয়, জেরুজালেমে অবস্থিত আল কুদস-এর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা আলোচনা হবে ওই বৈঠকে। কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সৌদি গেজেট বলেছে, শনিবার ওই বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান ১৩ই ডিসেম্বর ইস্তাম্বুলে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। এ কথা জানিয়েছেন তার মুখপাত্র ইব্রাহিম কলিন।

তিনি আঙ্কারা থেকে সাংবাদিকদের বলেন, জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে যে স্পর্শকাতরতা সৃষ্টি হয়েছে তার প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ওআইসি’র নেতাদের ওই বৈঠক আহ্বান করেছেন। এতে ইসলামিক দেশগুলো যৌথভাবে কি করণীয় তা নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ওআইসি’র চেয়ারম্যান তুরস্ক। ওদিকে জেরুজালেমের বিষয়ে আরব ও ইসলামিক মনোভাবাপন্নদের সহযোগিতার বিষয়ে রোববার ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ব্যতিক্রমী বৈঠক আহ্বান করেছে জর্ডান সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার আগে তাকে কড়া সতর্কতা দিয়েছিলেন এরদোগান। তিনি মঙ্গলবার বলেন, জেরুজালেমের মর্যাদা মুসলিমদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা। এর ফলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নও করতে পারে তুরস্ক। তবে জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘ যে রেজ্যুলেশন নিয়েছে তার প্রতি সম্মান দেখাতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।

চারদিকে উত্তেজনা
ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন সহ অনেক রাষ্ট্রনেতা। বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। শত শত বিক্ষোভকারী তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের কমপক্ষে দু’জন সিনিয়র কর্মকর্তা। তারা বলেছেন, এতে ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি প্রচেষ্টা পথ হারাবে। ফিলিস্তিন তো উত্তেজনায় টগবগিয়ে ফুটছে। সেখানকার রাজনীতিকরা বলছেন, ট্রাম্প আগুন নিয়ে খেলছেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে এ রিপোর্ট প্রকাশ করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক দশকের নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রচেষ্টা বিপদগ্রস্ত হলো। তার এ ঘোষণায় আরব বিশ্ব ও পশ্চিমা সমমনা মিত্ররা হতাশ হয়েছে।

বুধবার ট্রাম্প তার ঘোষণায় এমন স্বীকৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করবে। এতে এক বছরের মতো সময় লাগবে। তার পূর্বসূরিরা এমন সাহস দেখান নি উত্তেজনার আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায়। উল্লেখ্য, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছার ক্ষেত্রে এই জেরুজালেমের মর্যাদা সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। কারণ, মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টানদের সবার কাছেই এটি একটি পবিত্র এলাকা। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেমকে দখল করে ইসরাইল। তারপর তারা একে তাদের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে। ফিলিস্তিনও তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে ঘোষণা করে। কিন্তু ইসরাইল তাদের দাবির পক্ষে এতদিন কোনো জোরালো সমর্থন পাচ্ছিল না। এবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে গিয়ে সেই কাজটিই করে দিলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে তার এ ঘোষণাকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে প্রশংসায় ফেটে পড়লেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

কিন্তু বৃটেন ও ফ্রান্স সহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শক্তিধর পশ্চিমা ঘনিষ্ঠ মিত্র তার এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এতদিন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল। তারা এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাদের সেই ভূমিকা ত্যাগ করেছে। ফিলিস্তিনের ধর্মনিরপেক্ষ ও ইসলামপন্থিরা সবাই গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিবাদে ধর্মঘট আহ্বান করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, জেরুজালেমের পুরো শহরের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় না আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তারা বিশ্বাস করেন, জেরুজালেমের মর্যাদা কি হবে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। তাই জেরুজালেমে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ তাদের দূতাবাস স্থাপন করে নি। আন্তর্জাতিক মহল ফিলিস্তিন-ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এমন অবস্থান নিয়েছে। ঠিক সেই সময় ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে এমন একটি আন্তর্জাতিক বিরোধপূর্ণ এলাকাকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন।

তিনি বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা দিলেন, ‘আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, এটাই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার উত্তম সময়। আগের প্রেসিডেন্টরা নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এ নিয়ে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আজ, আমি সেই ঘোষণা দিচ্ছি’। এমনিতেই আরব বিশ্ব উত্তাল। একদিকে সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাকে যুদ্ধ চলছে। ইরান নিয়ে নানা রকম কথা। ইসরাইলের পারমাণবিক শক্তি নিয়ে নানা বিতর্ক। এমন এক পরিস্থিতিতে আরব দুনিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে- এ কথা বিশ্লেষকরা আগে থেকেই জানান দিয়েছেন। কিন্তু কোনো কথায় কান দেন নি ট্রাম্প।

ইন্তিফাদা ঘোষণা হামাসের
ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন করে অভ্যুত্থান বা ইন্তিফাদা ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থি শক্তিশালী সংগঠন হামাস। হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়েহ গাজায় বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, ইহুদিবাদী শত্রুদের বিরুদ্ধে আরেকটি ইন্তিফাদার আহ্বান জানাই আমরা এবং তা চালুর জন্য আমাদের কাজ করা উচিত। মে মাসে হামাসের প্রধান নির্বাচিত হন ইসমাইল হানিয়ে। তিনি ফিলিস্তিনি, মুসলিম ও আরবদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, শুক্রবার দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে র‌্যালি করুন আপনারা। এ দিনটিকে তিনি ‘ক্ষোভ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণায় বলেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে ৮ই ডিসেম্বর হোক আমাদের ইন্তিফাদা’র প্রথম দিন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে থাকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার করে না হামাস। এ সংগঠনের আত্মঘাতী বোমারুরা ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত শেষ ইন্তিফাদা’য় সহায়তা করেছিল। ইসমাইল হানিয়ে বলেন, জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের জন্য হুমকি এমন কৌশলগত কোনো বিপদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য সব হামাস সদস্য ও এর শাখা-প্রশাখাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদেরকে নতুন নির্দেশনার জন্য পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকা ও ইসরাইল দখলীকৃত পশ্চিম তীরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একীভূত জেরুজালেম হলো আরব ও মুসলিমদের।

এটা হলো ফিলিস্তিনি, সব ফিলিস্তিনির রাজধানী। এ সময় তিনি পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়া ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রতি আহ্বান জানান ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে। আহ্বান জানান ট্রাম্প প্রশাসনকে বর্জনের। ইসমাইল হানিয়ে বলেন, এটা ঘোষণা করা যেতে পারে যে, তথাকথিত শান্তিচুক্তির কবর রচনা হয়েছে। শান্তিচুক্তিতে অংশীদার ফিলিস্তিনি বলে আর কিছুই নেই।