জাতীয়

আর একসঙ্গে বেড়ানো হবে না ৪ বন্ধুর

হাসান ইমাম ও তার স্ত্রী বিলকিস বানু এবং নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আক্তারা বেগম। তারা চারজনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে পড়া শেষ করে চাকরিতে প্রবেশ করেন। গত সোমবার তারা একসঙ্গে হিমলায়কন্যা নেপাল ভ্রমণে রওনা হন। কিন্তু বিমান দুর্ঘটনায় তাদের সবাইকে চলে যেত হলো না ফেরার দেশে। ব্যস্ত জীবনে মনকে প্রশান্তি দিতে এভাবে আর কোনো দিন একসঙ্গে বেড়াতে যাওয়া হবে না তাদের।

দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসান ইমাম সর্বশেষ ভূমি মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব ছিলেন। এর আগে তিনি শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ছিলেন। তিন বছর আগে তিনি অবসরে যান। তার স্ত্রী বিলকিস বানু নাটোরের গোপালপুর কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তাদের বন্ধু নজরুল ইসলাম শিল্প ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তার স্ত্রী আক্তারা বেগম রাজশাহী মহিলা কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক ছিলেন।

হাসান ইমাম রাজশাহী নগরীর শিরোইল এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বাস করতেন। আর নজরুল ইসলাম নগরীর উপশহর এলাকায় থাকতেন। হাসান ইমামের দুই ছেলে কানাডাপ্রবাসী। নজরুল ইসলামের দুই মেয়ে ঢাকায় বাস করেন।

বিলকিস বানুর ভাই রাজশাহী বরেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর মালেক বলেন, আমাদের ৯ ভাইবোনের মধ্যে পঞ্চম বিলকিস। বড় বোন বিলকিস উড়োজাহাজে চড়তে ভয় পেতেন। এ কারণে তিনি কোনো দিনই ওই যানে চড়েননি। তার দুই ছেলে মাকে একাধিকবার কানাডা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এই প্রথম তিনি উড়োজাহাজে চড়ে নেপাল বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছেন।

চার বন্ধু সোমবারের দুর্ঘটনায় মারা গেছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কালো আর সবুজ দুটি তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনই কালো তালিকায়, অর্থাৎ তারা মারা গেছেন। এখন লাশ শনাক্ত করে ঢাকায় আনা হবে। এর পর তাদের রাজশাহী আনা হবে।

নিহত আক্তারা বেগমের ভাগ্নে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, তার খালার দুই মেয়ে কাঁকন ও কনক। তারা দু’জনই ঢাকা থাকেন। কাঁকনের বিয়ে হয়েছে। কনক লেখাপড়া করছেন।

তিনি আরও জানান, গত বুধবার তার খালা ও খালু নজরুল ইসলাম নেপাল বেড়াতে যাওয়ার জন্য ঢাকায় মেয়ে কাঁকনের বাসায় উঠেছিলেন। আগামী মঙ্গলবার তাদের রাজশাহী আসার কথা ছিল। যাওয়ার সময় তাকে বাড়ি দেখাশোনা করার জন্যও বলে গিয়েছিলেন।

জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি