জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ রাজশাহী

আমি কীভাবে নিজের মেয়েকে হত্যা করতে পারি

“আমি বাবা, মেয়েকে এত বড় করলাম, পড়ালেখা করালাম, সেই আমি কীভাবে মেয়েকে হত্যা করতে পারি? এও কি সম্ভব?” একথা বলে অশ্রুহীন কান্নার স্বরে নিজেকে আড়াল করছিলেন সিরাজগঞ্জ সদর থানাস্থ শিয়ালকোল ইউনিয়নের জগতগাঁতি গ্রামের সাইদুল ইসলাম বাদল(৫২)।

জানা যায়, গত ৬ আগস্ট রাত ৯ টার দিকে নিজ বাড়িতে খুন হন সাথী বেগম(২০)। তিনি ছিলেন শিয়ালকোল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা তাকে ফেলে দেয় পার্শবর্তী বাঁশঝাড়ের মধ্যে।

আর ঘটনা ভিন্নখাতে নিয়ে যাবার জন্য মুখে, গলায়, নাকে এবং আঙ্গুলে কোপ মারা হয়। ঘটনার সময় সাথীর মা,ভাই এবং বোন বাড়িতে ছিলেন না। তারা পার্শ্ববর্তি ধুকুরিয়া গ্রামে আত্নীয়ের বাড়িতে যান। পরবর্তীতে রাত ১০ টার দিকে বাড়িতে ফিরে মা মনোয়ারা বেগম খোজাখুজি করতে গিয়ে মেয়ের লাশ দেখতে পান এবং আরো পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। ঘটনার পর বাবা সাইদুল ইসলাম বাদল রহস্যজনক আচরণ করলে তাকে সন্দেহ করে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে মামলা দায়ের এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মা,বাবা এবং বড়বোনকে থানায় নিয়ে আসে সিরাজগঞ্জ থানা পুলিশ। সেখানে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং মা মনোয়ারাকে বাদি করে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

এইদিকে বাবা সাইদুলের মধ্যে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করেন পরিবারের অন্যান্যরা। তাদের তিনি বলেন ‘পুলিশ আমাকে ধরলে আমার ফাঁসি হবে।’ গত ৯ আগস্ট সাইদুলকে থানায় আসতে বলে পুলিশ। এতে ভেঙ্গে পড়েন তিনি। সেদিনই সকাল ৯টা বাজে বাড়ির কাছাকাছি কামারখন্দ থানার জামতল রেলস্টেশনের সন্নিকটে গিয়ে রেলে মাথা রেখে কাটা পড়ে আত্নহত্যা করেন তিনি।

জানা যায়, প্রতিবেশী আতাউরের সাথে সাইদুলের আর্থিক লেনদেন ছিলো। তাকে ফাঁসানোর জন্য অপর দুই দুর্বৃত্তের সহযোগীতায় মেয়েকে হত্যা করেন সাইদুল। এঘটনায় হতভাগ্য সাথীর বোন সীমা এবং মা মনোয়ারা সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ জবানবন্দি দেন ১২ আগস্ট শনিবার।

ঘটনার বর্ণনা দেন সিরাজগঞ্জ সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন। অপর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছেন বলেও জানান তিনি।