slider মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

আমাদের বিয়েবাড়ির আন্টি-সমাজ

কম-বেশি সারাবছর বিয়ে-শাদি এবং অন্যান্য দাওয়াত লেগে থাকলেও, আমাদের দেশে শীতকাল মানেই বিয়ের মওসুম। এসব বিয়ের নানান আনুষ্ঠানিকতায় আমরা সবাই দলবেঁধে যেতে পছন্দ করি। বিয়ে মানেই, অনেক খাবার, অনেক আড্ডা ও অনেক ফুর্তি। তবে, এসব বিয়েতে একটা জিনিস খুবই লক্ষণীয়, তা হলো আমাদের ‘আন্টি-সমাজ’। সব বিয়েবাড়িতেই অনেক আন্টি থাকেন। বলাই বাহুল্য, এঁরা নানান রকমের বিনোদন এবং বিরক্তির কারণ হয়ে থাকেন। এঁদের প্রকারভেদ করা যেতে পারে:

১. ঘটক আন্টি: এঁরা বিয়ে বাড়িতে যান শুধু ছেলে-মেয়ে দেখতে| কার মেয়ে কত বড়ো হলো, কার ছেলে কত বড়ো চাকরি করে, কে বিদেশ থেকে পড়া শেষ করে এসেছে, কার বিয়ের বয়স হয়েছে… এসব নিয়ে মাথা ঘামানো ছাড়া, এঁদের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। এঁরা সম্ভাব্য একটা বিয়ের পাত্র/পাত্রী পেয়ে গেলেই ঘ্যানঘ্যান শুরু করে দেন। আপনার মা বাবাকে ফোন করে বলবে: “মেয়ে বড়ো হয়েছে, বিয়ের কথা কিছু ভেবেছো… আমার কাছে একটা ভালো ছেলের খোঁজ ছিল।”

২. কুটনামি আন্টি: এই ‘প্রজাতি’-র আন্টিরা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। এঁরা নিজেদের কূটনৈতিক পারদর্শিতার কারণে খুবই ‘জনপ্রিয়’। হেন কোনো খবর নেই যা এই আন্টিদের অজানা। কার ছেলের সঙ্গে কার মেয়ের ‘ইয়ে’ চলছে, সেটাও এই আন্টিরা জানেন এবং নিজ দায়িত্বে সকল কথা এদিক-সেদিক পাচার করেন। শুধু তাই নয়, এঁরা প্রায় সময়ই গায়ে পরে সবার ‘ভেতরের খবর’ জেনে এসে অন্যদের বলে বেড়ান, এবং বেশির ভাগ সময় সেই খবরগুলো বেশ মশলা মিশিয়ে বলেন।

৩. শাড়ি-গহনা আন্টি: এই দলের আন্টিরা চূড়ান্তভাবে বিরক্তিকর। এঁদের জীবন সাধারণত শাড়ি-গহনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কোন দাওয়াতে কে কি পরে এলো, সাথে কোন গহনা পরলো, কেমন মেকাপ করলো, কিভাবে চুল বাঁধলো এবং কি রঙের লিপ্টস্টিক লাগলো… সম্ভব হলে এসব তিনি নোটবুকে লিখে রাখবেন। যার সাথেই দেখা হবে তাকেই বলবেন “এই শাড়িটা তুমি আরেকবার অমুক দাওয়াতে পড়েছিলে না? খুব মানিয়েছে তোমাকে..” নাহলে বলবেন, “আমার এই গহনাটা অমুক দোকান থেকে কিনেছি, এই শাড়িটা তমুক ডিজাইনারকে দিয়ে বানিয়েছি”। এঁরা শো-অফ করতে বিশেষ দক্ষতা রাখেন এবং যতক্ষণ আসে-পাশে থাকেন, শাড়ি-গহনা ছাড়া আর কোনো বিষয়ে আলাপ করেন না।

৪. সচেতন আন্টি: এই আন্টিরা অন্যদের থেকে সাধারণত রূপবতী হন, কারণ এঁরা নিজেদের বেশ ভালো যত্ন নেন। দেখলেই বুঝে নেয়া যায় যে, এঁরা প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বিউটি পার্লারে যান। ট্রেইনার রেখে জিম করেন। খাবার-দাবারের বিষয়ে বেশ সচেতন হবার কারণে বিয়ে বাড়িতে এসেও ‘কিছু খাবোনা’ বলে প্রায় দুই প্লেট বিরিয়ানি খেয়ে ফেলেন। এদের ‘নৃত্য-প্রতিভা’আবার দেখার মতো… তজর্নী আর মাথা একসাথে ঝাঁকিয়ে এঁরা এক অদ্ভুত ভঙ্গিতে নাচতে পারেন।

এই আন্টিদের কিভাবে চিনবেন? এঁরা আপনাকে দেখলেই বলবে ‘ও আল্লাহ, কি সুন্দর লাগছে/ ও আল্লাহ, এতো শুকালে কিভাবে/ ও আল্লাহ, এতো মোটা হলে কিভাবে?’

৫. নালিশ আন্টি: যত রকমের ‘পেইন’ আছে, ইনারা দিতে জানেন। সবাই যেটাকে বলবে সুন্দর, তিনি সেটার মধ্যে একটা খুঁত ধরবেন। সবার বদনাম করবেন, খাবার ঠান্ডা ছিল/মজা হয়নি… অমুকের ছেলে/মেয়ে তাঁকে সালাম দেয়নি… ফটোগ্রাফার তাঁর ছবি তুলেনি… রাস্তায় ট্র্যাফিক ছিল, ইত্যাদি সকল বিষয়ে তিনি নানান ধরনের নালিশ করে বিয়েবাড়ির মজাটা নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্ঠা করবেন।

এছাড়াও আছেন, ‘হিংসুইট্টা আন্টি’, ‘গায়ে পইরা আদর করতে আসা আন্টি’, ‘ভাবের ঠ্যালায় মাটিতে পা না পড়া আন্টি’ এবং ‘রঙ্গিলা আন্টি’। প্রিয় পাঠক, ক’জনের পাল্লায় পড়েছেন?

ভিডিওঃ একজন শিক্ষক কতটা খারাপ হতে পারে না দেখলে বিশ্বাস হবে না

Add Comment

Click here to post a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.