জাতীয়

আমাদের কে বাঁচাবে?

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের এবং তাদের পরিবার-পরিজনদের নিরাপত্তা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর।

এর আগে দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে নুরসহ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আরো দুই যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান ও ফারুক আহমদকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া বলে জানান পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

পরে জানা গেছে, মিন্টু রোডে অবস্থিত মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।

মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘কথা বলার জন্য কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছিল। পরে তারা চলে গেছেন।’

ছাড়া পেয়ে সংবাদ সম্মেলনে নুর বলেন, ‘অধিকার আদায়ের পক্ষে কথা বলার জন্য শিক্ষার্থীদের গর্জে ওঠার আহ্বান জানাই। কারণ আমাদের কাউকে এখন মেরে ফেলাও অসম্ভব কিছু না। তাই বলছি, ন্যায়ের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের মৃত্যু হলেও তোমরা ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, সরকারের কাছে অনুরোধ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের এবং তাদের পরিবার-পরিজনদের নিরাপত্তা দেয়া হোক। আমরা ১০০ ভাগ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছি।

নুর বলেন, ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে এসে আজ একদিকে আমরা হত্যার হুমকি পাচ্ছি, অন্যদিকে পুলিশও আমাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।’

জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজে আহত আন্দোলনকারীদের দেখতে গেলে আজ অনেক মানুষের সামনে থেকে তুলে নেয়ায় হয়তো আমরা বেঁচে ফিরতে পেরেছি। তবে, এরপর অন্য কোনো জায়গা থেকে তুলে নিয়ে গেলে আমাদের কে বাঁচাবে?’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘গুলিস্তানে নিয়ে আমার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। আমরা সরকারের সাথে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তও মেনে নিয়েছি। তারপরও নাটকীয়ভাবে আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চোখ খোলার পর দেখি আমরা ডিবি কার্যালয়ে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হয়েছে- তোমাদের ওপর হামলা হতে পারে তাই তোমাদের এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। তোমাদের একটা ভিডিও দেখাব। তবে ভিডিও দেখানো হয়নি।’

নুর বলেন, ‘আমি পানি চাইলে এক গ্লাস পানিও দেয়া হয়নি। পরে আমাদেরকে বলে তোমরা চলে যাও। পরে দরকার হলে তোমাদের আবার আসতে হবে।’