জাতীয় স্লাইডার হিন্দু

আবীরে রাঙা অসাম্প্রদায়িক এক দোল উৎসব

আবীরের আভায় দোলের আনন্দ উদযাপন করছেন পাপড়ি ও ঐশী নামের দুই তরুণী

জুমবাংলা ডেস্ক : ‘ওরে গৃহবাসী খোল্‌, দ্বার খোল্‌, লাগলো যে দোল/ স্থলে জলে বনতলে লাগলো যে দোল/ দ্বার খোল্‌, দ্বার খোল্‌’ – রবীন্দ্রসঙ্গীতের এই চরণগুলো বুঝিয়ে দেয়, দোলের আনন্দ কতটা সুদূরপ্রসারী। তাই তো শহর থেকে গ্রামে হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদেরও মেতে উঠতে দেখা যায় রঙের খেলায় আবীর মাখতে৷

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দোল উৎসবের এমন আয়োজন ছিল দেশের বিভিন্ন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায়। বাসন্তী শাড়ি আর পাঞ্জাবীতে তরুণ-যুবারা মেতেছিলেন রঙের উৎসবে।পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প যেন দেশকে আর পেছনে না নিয়ে যেতে পারে, সে প্রার্থনা করা হয়েছে মঠ-মন্দিরে৷

এদিন সকালে দেশের মন্দিরগুলোতে অনুষ্ঠিত হয় দোলপূজা। দক্ষিণমুখ করে দোলমঞ্চে বসানো শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকাকে উত্তর-দক্ষিণে দোল দেয়ার পর চরণে আবীর মাখিয়ে তা ভক্তরা ধারণ করেছেন নিজেদের কপালে।

পঞ্জিকা মতে, বুধবার (২০ মার্চ) ১০টা ১১মিনিট থেকে শুরু হওয়া পূর্ণিমা তিথি ছিল বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকাল ৭টা ৫৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড পর্যন্ত।

ঋতুচক্রের শেষ উৎসব দোলযাত্রা। পাতা ঝরার এই সময়টাতে থাকে বৈশাখের প্রতীক্ষা। বাংলার দোলযাত্রায় গৌড়ীয় বৈষ্ণব রীতি প্রাধান্য পেয়েছে। পুরনো জঞ্জাল, রুক্ষতা, শুষ্কতা সরিয়ে নতুনের আহ্বান থাকে দোল উৎসবে।

পণ্ডিতরা জানান, এ উৎসব বসন্ত উৎসব বা হোলি উৎসব নামেও পরিচিত, রঙ খেলা যার প্রধান আকর্ষণ। ঘরোয়াভাবেও অনেকে স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের রঙ লাগিয়ে দোল উৎসবে শামিল হন। ভগবান যখন মন্দির থেকে ভক্তদের মধ্যে নেমে আসেন, তখন তাকে যাত্রা বলা হয়। শাস্ত্রে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বাদশ প্রকার যাত্রার কথা বলা হয়েছে, এর মধ্যে দোলযাত্রা অন্যতম। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব তিথি।

ইতিহাস মতে, পূর্বভারতে আর্যরা এই উৎসব পালন করতেন। যুগে যুগে এর উদযাপন রীতি পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। পুরাকালে বিবাহিত নারী তার পরিবারের মঙ্গল কামনায় পূর্ণিমায় রঙের উৎসব করতেন। নারদ পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ ও ‘জৈমিনি মীমাংশা’ গ্রন্থে রঙ উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায়। ৩০০ খৃষ্টপূর্বাব্দের এক শিলালিপিতে রাজা হর্ষবর্ধন কর্তৃক ‘হোলিকোৎসব’ পালনের কথা জানা যায়। হর্ষবর্ধনের নাটক ‘রত্নাবলী’-তেও হোলিকোৎসবের উল্লেখ আছে, যা দোলযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। মধ্যযুগের বিখ্যাত চিত্রশিল্পগুলোর অন্যতম প্রধান বিষয় রাধা-কৃষ্ণের রঙ উৎসব। শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান মথুরা ও বৃন্দাবনে এই উৎসব বিশেষ মর্যাদায় পালন করা হয়। ১৬ দিন ধরে চলে রঙ পঞ্চমী।

ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবে এ সময়ে দুর্বল দেহে চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। তৎকালে আধুনিক চিকিৎসা ছিল না বলে প্রতিরোধক হিসেবে ‘আবীর’ গায়ে মাখানো হতো। কালক্রমে তা রঙ ছুঁড়ে দেয়া বা মাখানোর রীতিতে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানান আনুষ্ঠানিকতা।

জুমবাংলানিউজ/এইচএমজেড