রাজনীতি

আন্দোলন স্থগিত করলো ছাত্রদল

ছবি- সংগৃহীত

জুমবাংলা ডেস্ক: বয়সের সীমা রেখা বাদ দিয়ে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতারা কর্মসূচি স্থগিত করছে।

ভেঙে দেওয়া কমিটির সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতারা আমাদেরকে দলের চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেকেছিলেন। তারা সেখানে আমাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন এবং দাবিগুলো শুনেছেন। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা আমাদের বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর তারা আবার আমাদের সঙ্গে বসবেন।

আপনারা কতদিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করলেন- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো আন্দোলন শব্দটা বলি নাই। আমরা বিক্ষুব্ধ ছিলাম। সেটাই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আর এই কর্মসূচি স্থগিতের কোন নির্দিষ্ট দিন ও তারিখ নেই।

আপনার দাবি পূরণ না হলে পরবর্তি কর্মসূচি কবে ঘোষণা করবেন- এই প্রশ্নের জবাবে পাইলট বলেন, দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে আমরা বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো কি কর্মসূচি দেওয়া যায়।

মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ আন্দোলন শুরু করেন সাবেক ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এর আগে সকাল ১০টা থেকে সাবেক ছাত্র নেতারা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সকাল সোয়া ১১টায় কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

পরে ১১টা ২০ মিনিটে কার্যালয়ের সামনে আসেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং প্রশিক্ষণ বিষয় সম্পাদক এবিএম মোশারফ হোসেন।

বিএনপির এই চার নেতা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তাদেরকে বাধা দেন সাবেক ছাত্রনেতারা। এসময় তাদের সাথে ছাত্রনেতাদের কমিটির বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়।

বিএনপির চার নেতাকে ছাত্রনেতারা বলেন, ‘বয়সসীমা না করে ছাত্রদলের ধারাবাহিক কমিটি দিতে হবে। আর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একাই দুটি পদ নিয়ে অফিসকেই বাড়ি-ঘর বানিয়েছেন। রিজভীকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যান।’

গত ৩ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিল করা হয়। এতে বলা হয়, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রীয় সংসদ গঠন করা হবে।

ছাত্রদলের অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে। কেবল ২০০০ সাল থেকে পরবর্তীতে যে কোনো বছরে এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

সংগঠনটির সাবেক নেতাকর্মীরা বয়সের কোনো সীমারেখা নির্ধারণ না করে স্বল্পমেয়াদে আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত একটি কমিটি গঠন এবং পরের কমিটিকেও এক বছরের স্বল্পমেয়াদে গঠন করে ছাত্রদলের নেতৃত্বের জট কমানোর দাবি করেছেন। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাদের সেই দাবিকে অগ্রাহ্য করে নানান শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

জুমবাংলানিউজ/এসএম

জুমবাংলা/এসএম/