অপরাধ/দুর্নীতি জাতীয় স্লাইডার

আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে বদির ৩ ভাইসহ শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ী

কক্সবাজার প্রতিনিধি : অবশেষে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে টেকনাফ উপজেলার তালিকাভুক্ত ৩৫ জন গডফাদারসহ প্রায় ১২০জন ইয়াবা ব্যবসায়ী।

আগামী শনিবার সকাল ১০টায় টেকনাফ কলেজ মাঠে হবে বহুল প্রত্যাশিত এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে প্রতীকীভাবে ইয়াবা ট্যাবলেট জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। আত্মসমর্পণের জন্য এরই মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জিম্মায় এসেছে তারা। তাদের মধ্যে রয়েছে টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির তিন ভাই আবদুল আমিন, মো. সফিক ও মো. ফয়সাল, ভাগিনা সাহেদুর রহমান নিপু এবং বেয়াই শাহেদ কামাল। রয়েছে টেকনাফ সদরের এনামুল হক মেম্বার, ছৈয়দ হোসেন মেম্বার, শাহ আলম, আবদুর রহমান, মোজাম্মেল হক, জোবাইর হোসেন, নূরুল বশর, কামরুল হাসান রাসেল, জিয়াউর রহমান, মো. নুরুল কবির, মারুফ বিন খলিল ওরফে বাবু, মো. ইউনুছ, ছৈয়দ আহমদ, রেজাউল করিম, নুরুল হুদা মেম্বার, দিদার মিয়া, জামাল হোসেন মেম্বারসহ অনেকে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গডফাদার হিসেবে সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির নাম থাকলেও তিনি আত্মসমর্পণ করছেন না। তবে তার নির্দেশে তিন ভাইসহ অন্তত ১০ জন নিকটাত্মীয় আত্মসমর্পণের জন্য পুলিশ হেফাজতে এসেছে। বদির আরেক ভাই মৌলভী মুজিবুর রহমান এখনও আত্মগোপনে।

শেষ পর্যন্ত সেও আত্মসমর্পণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার সাইফুল করিম আত্মসমর্পণ করছে কি-না এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তালিকায় রয়েছে টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ ও তার চার ছেলের নাম। তবে এলাকায় প্রকাশ্যে বিচরণ করলেও তারা আত্মসমর্পণ করছে না বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের তথ্যমতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ১৫১ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে। এদের বেশিরভাগ সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের। ভয়াবহ মাদক ইয়াবার বিরুদ্ধে গত বছরের ৪ মে থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। এ পর্যন্ত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ৪২ কারবারি। এর মধ্যে ৩৭ জনই টেকনাফের। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ৭৩ জন গডফাদারের মধ্যে মাত্র চারজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে।

জুমবাংলানিউজ/এইচএম