জাতীয় শেয়ার বাজার

আইপিওর আকার ও লক ইনের মেয়াদ কমানোর প্রস্তাব

পুঁজিবাজার ডেস্ক : সম্প্রতি পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫-এর বেশকিছু বিষয় সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আর এসব সংশোধনীর বিষয়ে মতামত চূড়ান্ত করতে গতকাল নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডাররা। বৈঠকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আকার ও লক ইনের মেয়াদের বিষয়ে কমিশনের নেয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গতকালের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মো. রকিবুর রহমান, মিনহাজ মান্নান ইমন ও শরীফ আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালক মো. ছায়েদুর রহমান, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও সেক্রেটারি জেনারেল খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী, ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও এবং পরিচালক মোহাম্মদ আলী।

সভাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইপিওর আকার নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত কিছুটা পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তাব দেয়া হবে। প্রস্তাবিত পাবলিক ইস্যু রুলসের খসড়া অনুসারে, ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে অভিহিত মূল্যের আইপিওর ক্ষেত্রে পাবলিক ইস্যুর পরিমাণ হবে ন্যূনতম ৫০ কোটি কিংবা ইস্যুয়ার কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ, যেটি বেশি হয়। একইভাবে বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ হবে কমপক্ষে ১০০ কোটি কিংবা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ, যেটি বেশি হয়। অন্যদিকে স্টেকহোল্ডারদের প্রস্তাব হচ্ছে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে পাবলিক অফারের পরিমাণ হবে ৩০ কোটি টাকা কিংবা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ, যেটি বেশি হয়। তবে এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ন্যূনতম ২০ কোটি টাকা। একইভাবে বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পাবলিক অফারের পরিমাণ হবে ৫০ কোটি টাকা কিংবা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ, যেটি বেশি হয়। আর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা। তবে ফিক্সড প্রাইস ও বুক বিল্ডিং—উভয় পদ্ধতিতেই প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের আকার কোনোভাবেই এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ইকুইটির ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রসপেক্টাসে উল্লেখকৃত কোম্পানির সব শেয়ারহোল্ডারের শেয়ারের ওপর তিন বছরের লক ইন প্রযোজ্য হবে। আর লক ইনের মেয়াদ শুরু হবে স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের প্রথম দিন থেকে। কমিশনের এ সিদ্ধান্তে অন্য স্টেকহোল্ডাররা একমত হলেও বিএমবিএর পক্ষ থেকে এটি কিছুটা শিথিল করার প্রস্তাব দেয়া হবে। তাদের প্রস্তাব অনুসারে লক ইনের মেয়াদ হবে লেনদেন শুরুর তারিখ থেকে দুই বছর কিংবা দুটি এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত।

আইপিওর ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (ইআই) কোটার বিষয়ে বিএসইসির সিদ্ধান্ত হচ্ছে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে অভিহিত মূল্যে পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে ইআইদের বিদ্যমান কোটা ৪০ থেকে কমে ৩০ শতাংশ হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের (এনআরবি ব্যতীত) কোটা ৪০ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশে দাঁড়াবে। অন্যদিকে বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ইআইদের বিদ্যমান কোটা ৬০ থেকে কমে ৫০ শতাংশ হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিদ্যমান কোটা ৩০ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়াবে। তবে স্টেকহোল্ডারদের প্রস্তাব হচ্ছে ফিক্সড প্রাইসের ক্ষেত্রে ইআইদের কোটা ৩০ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৬০, মিউচুয়াল ফান্ড ৫ ও এনআরবি ৫ শতাংশ। আর বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ইআই ও মিউচুয়াল ফান্ডের কোটা ৫০, এনআরবি ৫ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব দেয়া হবে।

স্টেকহোল্ডারদের প্রস্তাব অনুসারে, ইআই হিসেবে প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন ফান্ড কিংবা গ্র্যাচুইটি ফান্ডের মতো যেকোনো রিটায়ারমেন্ট ফান্ডের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ হবে ন্যূনতম তিন বছর। আইপিওতে ইআই কোটার সুবিধা পেতে হলে পুঁজিবাজারে রিটায়ারমেন্ট ফান্ডের মোট তহবিলের ন্যূনতম ৫ শতাংশ বিনিয়োগ থাকতে হবে।

এছাড়া আইপিওর আগে উত্তোলিত মূলধনের ব্যবহারের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল আইপিও আবেদনের আগেই পুরো অর্থ ব্যয় করতে হবে। তবে এ বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের প্রস্তাব হচ্ছে আইপিও আবেদনের আগে ৫০ শতাংশ এবং আইপিও সাবস্ক্রিপশনের আগে বাকি ৫০ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করতে হবে।

স্টেকহোল্ডারদের এসব প্রস্তাবসহ পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫-এর প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিষয়ে তাদের মতামত ১৭ জুন কমিশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের কাছে জমা দেয়া হবে।

জুমবাংলানিউজ/পিএম