খেলা-ধুলা

অসম্ভব এক লক্ষ্যের পেছনে ছুটছিল পাকিস্তান

অসম্ভব এক লক্ষ্যের পেছনে ছুটছিল পাকিস্তান। চতুর্থ দিন শেষে সেখানে শেষ সলতে হয়ে আশা জাগিয়ে রেখেছিলেন আসাদ শফিক।

ব্রিসবেন টেস্টের পঞ্চম দিনে বোলার ইয়াসির শাহকে নিয়ে ভালোভাবেই এগোচ্ছিলেন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। কিন্তু তার আউটের এক রান বাদেই পাকিস্তানের তরী ডুবে, দ্বিতীয় ইনিংসে সফরকারীরা গুটিয়ে যায় ৪৫০ রানে।

ফলে রেকর্ড গড়তে যাওয়া টেস্টে মিসবাহরা হেরে যায় ৩৯ রানে। অথচ ইয়াসির শাহের সঙ্গে নবম উইকেটে ৭১ রানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে রীতিমত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন শফিক।

শেষ পর্যন্ত শফিকের ১৩৭ রানের লড়াকু ইনিংস থামান মিশেল স্টার্ক। ডেভিড ওয়ার্নের তালুবন্দি হওয়ার আগে তিনি ৩৩৪ মিনিট আর ২০৭ বল মোকাবেলা করেন।

আসাদ শফিকের আউটের তিন বল পরেই দারুণ খেলতে থাকা ইয়াসির শাহ রানআউট হন। তিনি করেন ৩৩ রান।

এর আগে আজহার আলী-ইউনুস খানের দেখানো পথ ধরে মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান আসাদ শফিকের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে জয়ের জন্য শেষদিনে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১০৮ রান।

প্রথম ইনিংসের মতো হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস। চতুর্থ দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩৮২ রান করে দলটি। গড়েছে গ্যাবায় চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি পাওয়া ম্যাচসেরা শফিক ১৩৭ ও ইয়াসির শাহ করেন ৩৩ রান। গ্যাবায় তিন অংকে ছুঁয়ে গ্যারি সোবার্সকে পেছনে ফেলে ছয় নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড একার করে নিয়েছেন শফিক। আটটি সেঞ্চুরি আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গ্রেট সোবার্সের।

রোববার দুই উইকেটে ৭০ রান নিয়ে খেলা শুরু করে পাকিস্তান। আগের দিন ১৯ বল খেলে রানের দেখা না পাওয়া ইউনুস এদিন প্রথম বলেই চার হাঁকান। দুই ব্যাটসম্যান খেলেন দারুণ আস্থার সঙ্গে। চতুর্থ ইনিংসে বরাবরই নিজেকে মেলে ধরা ইউনুসের সঙ্গে আজহারের ৯১ রানের জুটিতে এগিয়ে যায় পাকিস্তান।

মিচেল স্টার্কের বলে ম্যাথু ওয়েডের গ্লাভসবন্দি হয়ে আজহারের বিদায়ে ভাঙে পাকিস্তানের প্রতিরোধ। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মিসবাহ-উল-হক ও ইউনুস খানের দুই বাজে শট বিপদে ফেলে দেয় পাকিস্তানকে।

সাতটি চারে ৬৫ রান করে ফিরেন ইউনুস, দুই অংকে যেতে পারেননি অধিনায়ক। এরপরই শুরু হয় শফিকের লড়াই। শুরুতে তাকে সঙ্গ দেন সরফরাজ। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর যে পাকিস্তান ভেঙে পড়েনি তাতে বড় অবদান মোহাম্মদ আমির ও ওয়াহাব রিয়াজের।

ক্যারিয়ারসেরা ৪৮ রানের ইনিংস খেলার পথে শফিকের সঙ্গে ৯২ রানের জুটি গড়েন আমির। আমির ফিরে যাওয়ার সময়ও দিনের খেলার অনেক বাকি। তবে ওয়াহাব দারুণ সঙ্গ দেন শফিককে। দিনের শেষ ওভারে ওয়াহাবকে বিদায় করে ৬২ রানের জুটি ভাঙে অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রলিয়ার পেসার স্টার্ক ৪টি ও জ্যাকসন বার্ড ৩টি করে উইকেট নেন। দুটি উইকেট নেন অফ-স্পিনার নাথান লায়ন।

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস ৪২৯ (রেনশ ৭১, স্মিথ ১৩০, হ্যান্ডসকম্ব ১০৫। মোহাম্মদ আমির ৪/৯৭, ওয়াহাব রিয়াজ ৪/৮৯)।

পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ১৪২ (সরফরাজ ৫৯*। স্টার্ক ৩/৬৩, হ্যাজলউড ৩/২২, বার্ড ৩/২৩)।

অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস ২০২/৫ ডিক্লেয়ার (উসমান খাজা ৭৪, স্মিথ ৬৩। রাহাত আলী ২/৪০)।

পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস ৪৫০ (আসাদ শফিক ১৩৭, আজহার আলী ৭১, ইউনুস খান ৬৫ ও মোহাম্মদ আমির ৪৮। স্টার্ক ৪/১১৯ ও জ্যাকসন বার্ড ৩/১১০)।

ভিডিও:বিমান থেকে যাত্রীকে টেনে নামালেন নিরাপত্তারক্ষীরা ! যা দেখে অবাক হবেন (‌ভিডিও)‌

Add Comment

Click here to post a comment