জাতীয় ঢাকা

অবশেষে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে বিজিএমইএ ভবন, আজ থেকে প্রক্রিয়া শুরু

জুমবাংলা ডেস্ক: রাজধানীর হাতিরঝিলে অবস্থিত তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র ভবনটি ভেঙে ফেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ভেঙ্গে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করে রাজউক।

গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিজিএমইএ ভবন ভাঙার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সকালে লাল ফিতা দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে ভবনের চারপাশ। সেখানে পাহারায় রয়েছেন রাজউক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। বাইরের কাউকেই আর সেখানে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘এটি আসলে দীর্ঘ প্রক্রিয়া। হুট করে তো আর ভাঙা শুরু করা যাবে না। এর আগে বেশ কিছু প্রক্রিয়া আছে। ধাপে ধাপে চলবে ভাঙার কাজ। তবে ভাঙার মূল প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হলো।’

রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সালে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওইদিনই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনিরউদ্দিন প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন। পরদিন হাইকোর্ট বিজিএমইএ ভবন কেনো ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।

পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএ আপিল আবেদন করে। ওই আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৩ সালে বিজিএমইএকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে ভবন ভাঙার জন্য বলা হয়। এরপর রিভিউ আবেদনটিও খারিজ হয়। পরবর্তীতে আদালতের কাছে সময় চেয়ে বারবার আবেদন করে সংগঠনটি। সবশেষ গত বছরের ৩ এপ্রিল এক বছরের জন্য সময় দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

‘বিজিএমইএ ভবন’ অপসারণে আপিল বিভাগের দেয়া এক বছর সময় শেষ হয়েছে ১২ এপ্রিল। গত বছরের ২ এপ্রিল সর্বোচ্চ আদালত ভবনটি অপসারণে তৈরি পোশাক ও রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএকে এক বছর দশ দিন সময় দেন।

জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে ‘একটি ক্যান্সার’ বলেছিল হাইকোর্ট। ওই ভবন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আপিলেও বহাল থাকে। পরে বিজিএমইএ রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। ভবনটি টিকিয়ে রাখতে বিজিএমইএ নেতারা বহু চেষ্টা করেছেন। দীর্ঘ আট বছর মামলা লড়ে পরাজিত হন তারা।

ভবনটি সরাতে একাধিকবার সময় নেয় বিজিএমইএ। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫০ শতাংশ কমমূল্যে উত্তরার ১৭ নং সেক্টরে ১১০ কাঠা জমির ওপর ১৩ তলা ভবন নির্মিত হচ্ছে। ২০১৭ সালে নতুন এই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ৬ তলার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া ভবনটির পুরো কাজ শেষ হতে পারে ২০২০ সালের জুনে। তবে কয়েকটি তলার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় ও আদালতের বাধ্যবাধকতা থাকায় চলতি মাসেই বিজিএমইএ’র প্রধান কার্যালয় উত্তরায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।

জুমবাংলানিউজ/এইচএম