জাতীয় স্লাইডার

অবশেষে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন বিল সংসদে

বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন বিল জাতীয় সংসদে তোলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিলটি সংসদে তোলেন।

পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া।

দ্বাদশ সংসদের এই ২২তম অধিবেশনেই আইনটি পাস হবে বলে আজ এক অনুষ্ঠানে জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের এ্মইএসে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভা আইনটির প্রস্তাব অনুমোদন করে।

বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে সংঘটিত কোনো দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত বা নিহত হলে চালক সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে বলে বিধান রাখা হয়েছে।

তবে বিলের ১১৪ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল ইত্যাদির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি (১৮৯৮) প্রযোজ্য হবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী হত্যা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

অন্যান্য ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি এই ধরনের অপরাধ করলে ওই কোম্পানির মালিক, পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব বা অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে।

কোনো ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে পাবলিক প্লেসে গাড়ি চালাতে পারবে না বা চালানোর অনুমতি দেওয়া যাবে না।

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ এবং পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বয়স কমপক্ষে ২১ হতে হবে। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। আরও বলা হয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স হস্তান্তর করা যাবে না।

ফিটনেস সনদ ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ সনদ ব্যবহার অথবা ইকোনোমিক লাইফ অতিক্রান্ত হওয়া মোটরযান চালালে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

মোটরযান দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হলে বা মারা গেলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে বিলে।

জুমবাংলানিউজ/ জিএলজি