আন্তর্জাতিক

অবশেষে ইকুয়েডরের নাগরিকত্ব পেলেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

গত পাঁচ বছর ধরে লন্ডনের ইকুয়েডরের দূতাবাসে আছেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ৷ অবশেষে ইকুয়েডরের নাগরিকত্ব পেয়েছেন তিনি৷

বৃহস্পতিবার ইকুয়েডর ঘোষণা করে যে, উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ইকুয়েডরের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে৷

ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোজা বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘সুরক্ষিত ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ও এই পন্থায় আমন্ত্রণকারী দেশে তাঁর অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করার অধিকার ইকুয়েডর সরকারের আছে৷” আসাঞ্জ গত ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখে ইকুয়েডরের নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে এস্পিনোজা জানান৷

এর একদিন আগে আসাঞ্জ ইকুয়েডর ফুটবল একাদশের জার্সি পরে তোলা নিজের একটি ফটো টুইট করেন৷

উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়৷ ইকুয়েডরের নাগরিকত্ব পাওয়ার ফলে তাঁর পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই, কেননা, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিকবার উল্লেখ করেছে যে, সমস্যা সমাধান হতে পারে, যদি ‘‘অ্যাসাঞ্জ দূতাবাস পরিত্যাগ করে বিচারের সম্মুখীন হন৷”

বৃহস্পতিবারই ব্রিটেন আরো জানায় যে, ইকুয়েডরের তরফ থেকে আসাঞ্জকে কূটনীতিকের মর্যাদা দেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে৷ কূটনীতিক হিসেবে আসাঞ্জ ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি বা কূটনৈতিক অনাক্রম্যতা পেতেন এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত ভিয়েনা চুক্তি অনুযায়ী নিরাপদ যাত্রার অধিকার পেতেন৷

‘‘ইকুয়েডর আপাতত যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে অন্যান্য সম্ভাবনা যাচাই করে দেখছে, যেমন বিশিষ্ট ব্যক্তি, অপরাপর দেশ বা আন্তর্জাতিক সংগঠনের মধ্যস্থতা, যার মাধ্যমে সব পক্ষের জন্য একটা ন্যায্য, চূড়ান্ত ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান সম্ভব,” বলেন এস্পিনোজা৷ ‘‘ (আসাঞ্জের) জীবন ও চারিত্রিক সম্পূর্ণতার উপর যুক্তরাজ্যের তরফ থেকে না হলেও, তৃতীয় কোনো দেশের তরফ থেকে বিপদ ঘটার ব্যাপারে আমাদের যুক্তিযুক্ত আশঙ্কা রয়েছে,” বলে এস্পিনোজা ঘোষণা করেন৷

ইকুয়েডরের দূতাবাস লন্ডনের অভিজাত নাইটসব্রিজ এলাকায় অবস্থিত৷ ২০১২ সাল থেকে অ্যাসাঞ্জ সেখানে অবস্থান করেছেন৷ ধর্ষণের অভিযোগে সুইডেনে বিচারের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে সেখানে আশ্রয় নেন তিনি৷ আসাঞ্জের আশঙ্কা, সুইডিশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে মার্কিন সরকারের হাতে তুলে দেবে৷ উইকলিকসে হাজার হাজার গোপনীয় সামরিক ও কূটনৈতিক দলিল প্রকাশ করার দায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরারি হিসেবে গণ্য৷

সুইডিশ আইনজীবিরা গতবছর অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করেন, কিন্তু ব্রিটিশ পুলিশ বলে যে, জামিনের শর্ত ভঙ্গের জন্য অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে৷

এস্পিনোজা ইতিপূর্বেই আভাস দিয়েছেন যে, ব্রিটেনের সঙ্গে অচলাবস্থা দূর করার জন্য ইকুয়েডর কোনো ‘তৃতীয় গেশ বা ব্যক্তিত্বের’ শরণ নিতে পারে৷

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কিছু আগে অ্যাসাঞ্জ অভিযোগ করেন যে, লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসের কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে তার ইন্টারনেট অ্যাক্সেস বন্ধ করে দিয়েছেন, কেননা, তিনি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টনের ইমেল ফাঁস করতে চলেছিলেন৷

সম্প্রতি অ্যাসাঞ্জ কাতালুনিয়ার স্বাধীনতা প্রচেষ্টার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন, যার ফলে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো তাঁর প্রতি বিরূপ হন, কেননা, অ্যাসাঞ্জের মনোভাব সম্পর্কে মাদ্রিদ সরকারের তরফ থেকে কিটো সরকারের কাছে তলব আসে৷

‘‘আমরা অ্যাসাঞ্জকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি যে, তার ইকুয়েডরের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার কোনো কারণ নেই, কেননা, তার পরিস্থিতি তাকে সেই অধিকার দেয় না,” মোরেনো স্পেনের একটি সংবাদপত্রকে এ কথা বলেন৷