খেলা-ধুলা

অদ্ভুতুড়ে বোলিং অ্যাকশন-সমৃদ্ধ আরেক স্পিনারের খোঁজ পেল লঙ্কানরা

অপ্রচলিত বোলিং অ্যাকশনের বোলার তৈরিতে বিশ্ব ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার নাম আছে। মুত্তিয়া মুরালিধরন থেকে লাসিথ মালিঙ্গা বা অজন্তা মেন্ডিস, শ্রীলঙ্কা যেন রহস্য বোলিংয়ের স্বর্গরাজ্য। অদ্ভুতুড়ে বোলিং অ্যাকশন-সমৃদ্ধ আরেক স্পিনারের খোঁজ পেয়েছে লঙ্কানরা। নাম কেভিন কোত্থিগোদা, এখন খেলছেন শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলে।

যুব এশিয়া কাপে অংশ নিতে এই মুহূর্তে মালয়েশিয়ায় খেলছেন কোত্থিগোদা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ৬১ রানে জয়ের ম্যাচে খেলেছেন এই ডানহাতি লেগ স্পিনার। তাঁর বোলিং অ্যাকশন অনেকটা সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান চায়নাম্যান বোলার পল অ্যাডামসের মতো। তবে অ্যাডামস বাঁহাতি বোলার ছিলেন, যেখানে এই তরুণ ডান হাতে বল করে থাকেন। তিনি বড় হয়েছেন গল ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে উনাওয়াতুনা শহরে।

রিচমন্ড কলেজে পড়ার সময়ে তাঁকে কোচিং করিয়েছেন শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সাবেক ওপেনার ধাম্মিকা সুদর্শনা। এই লেগি সম্পর্কে সুদর্শনা বলেছেন, ‘ওর একটি অপ্রচলিত অ্যাকশন রয়েছে। কিছুটা পল অ্যাডামসের মতো। অ্যাকশনটা সে নিজে নিজেই শিখেছে, কোচিং করানো হয়নি। বলের লেংথ নিয়ে কিছুটা সমস্যা ছিল, কারণ বল ছাড়ার সময় পিচ দেখতে পেত না। এখন সে এটা দারুণভাবে কাটিয়ে উঠেছে।’

একই কলেজ থেকে পড়াশোনা করে জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে খেলছেন ওয়ানিংডু হাসারাঙ্গা। ইতিহাসের প্রথম লেগ স্পিনার হিসেবে (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে) ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসারাঙ্গা। এক দলে দুজন লেগ স্পিনার খেলানোটা সাধারণত ব্যর্থ হওয়ায় কলেজ ছাড়েন কোত্থিগোদা, ভর্তি হন মাহিন্দা কলেজে। এখান থেকেই যুব বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
আম্পায়ার শরৎ অশোকা তাঁকে ম্যাচে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ওর দারুণ একটা অ্যাকশন রয়েছে। কিন্তু সে ঠিক জায়গাতেই বল ফেলে। ছেলেটা খুবই ভালো, ভবিষ্যৎও উজ্জ্বল।’
১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেস্ট সিরিজ জিতিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী পল অ্যাডামস। অদ্ভুতুড়ে বোলিং অ্যাকশন-সমৃদ্ধ বোলাররা দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। শ্রীলঙ্কাও তেমন আশা নিয়েই তাকিয়ে রইবে কোত্থিগোদার দিকে।