বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

অটিজমের কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের নয়া আবিষ্কার

অটিজমের এক-তৃতীয়াংশের কারণ হিসাবে দেখা যায়, তাদের মস্তিষ্কে এক বিশেষ প্রোটিমের মাত্রা অনেক কম থাকে। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। কাজেই এ গবেষণা প্রতিবন্ধিত্বের চিকিৎসায় নয়া দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়, যারা প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মান তাদের মস্তিষ্কে এনএসআর১০০ নামের একটি প্রোটিনের ঘাটতি থাকে। তবে এটা বোঝা যায়নি যে, প্রোটিনের এই ঘাটতি কি কোনো লক্ষণ বা বাইপ্রোডাক্ট বা প্রতিবন্ধিত্বের কারণ হিসাবে দেখা দেয়।
গবেষকরা দেখেন, ইঁদুরের মস্তিষ্কে এনএসআর১০০ প্রোটিনের মাত্রা কমানো হলে তাদের মাঝে অটিস্টিক আচরণ দেখা দেয়। মগজে এই প্রোটিন কম থাকলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গবেষণার চ্যারিটি অটিস্টিকা এই গবেষণাকে দারুণ ফলপ্রসূ এবং উচ্চমান বলে মন্তব্য করেছে। তবে এ বিষয়ে আরো বিস্তৃত পরিসরে গবেষণা দরকার। এ প্রোটিন এবং অটিস্টিক অবস্থার মধ্য স্পষ্ট যোগাযোগটা বের করতে হবে।
টরেন্টোর লুনফেল্ড-টেনেনবাউম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক স্যাবিন কোর্ডেস জানান, এর আগেও আমরা এনএসআই১০০ প্রোটিন এবং অটিজমের মধ্যকার সম্পর্কের কথা বলেছি। এই প্রোটিনের পরিমাণ মাত্র ৫০ শতাংশ কমানোর ফলেই এলোমেলো আচরণ দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কের আরো কয়েকটি প্রোটিনের মাত্রা ঠিকঠাক রাখতে ভূমিকা রাখে এনএসআর১০০ এর। কোষের নিরাপত্তা দিতে এই প্রোটিন অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।
গবেষণায় বলা হয়, মস্তিষ্কে এসব প্রোটিন অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে থাকলে আচরণে প্রতিবন্ধিত্ব দেখা দেয়।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জন্ম দেওয়া এসব ইঁদুর ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে। এদের মস্তিষ্কে স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণ এনএসআর১০০ থাকে, তা অর্ধেকে নামিয়ে আনলেই তাদের মাঝে অটিস্টিক ব্যবহার দেখা যায়। অন্য ইঁদুরের সঙ্গে মেশামেশি এড়িয়ে চলে তারা। তা ছাড়া শব্দের ক্ষেত্রেও বেশি স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে আগের চেয়ে।
প্রফেসর কোর্ডেসের মতে, প্রতিবন্ধী মানুষের মস্তিষ্কে এই প্রোটিনের মাত্রা সুষমভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অবস্থার উন্নতি ঘটানো সম্ভব। কাজেই অটিজমের পেছনে ডিএনএ’র মিউটেশনের দিকে খেয়াল কম দিয়ে যদি এই প্রোটিনের দিকে নজর দেওয়া যায়, তো অটিজমের চিকিৎসাব্যবস্থা আরো উন্নত করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের আচরণগত উন্নতি ঘটানো সম্ভব হবে।
অটিস্টিকার সায়েন্স ডিরেক্টর ড. জেমস কুসাক জানান, এই উন্নত গবেষণায় অটিজমের বড় একটি কারণ উঠে এসেছে। অতীতেও এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার আরো বড় পরিসরে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে। অটিজমের পেছনে অনেক কারণ জড়িয়ে থাকে। নিউরনের বিকাশ এবং মনের অনেক বিষয় রয়েছে। এ গবেষণায় প্রতিবন্ধীদের আচরণগত অনেক সমস্যাই দূর করা সম্ভব হবে।
মলিকিউলার সেল জার্নালে গবেষণপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

ভিডিওঃ এটা দেখার পর হতবাক হয়ে যাবেন

Add Comment

Click here to post a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.