অন্যরকম খবর

শুধু কালো টাকা উদ্ধারই নয়, নরেন্দ্র মোদির মূল লক্ষ্য কি ছিল ! শুনলে চমকে যাবেন আপনি!

wবাতিল হয়েছে নোট। চলছে দুর্ভোগ। প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে সমর্থনই বেশি। অধিকাংশ মানুষই গর্ব ভরা গলায় বলেছেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর হিম্মত আছে।’
৫৬ ইঞ্চি ছাতির চোখে জলকে ক্ষমাসুন্দর চোখেই দেখেছে অধিকাংশ মানুষ, তার প্রতি অনেকেরই সমর্থন বেড়েছে। কিন্তু সেই চোখের জলে বাস্তব দুর্ভোগের চিড়ে ভিজছে না। তবু সাধারণের মধ্যে কালো টাকা উদ্ধারের সমর্থনে দেশপ্রেমের আবহ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু শুধু কালো টাকা উদ্ধারই কি প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য? আর সেই টাকা উদ্ধার করতে পদক্ষেপ করে তার মুখে মৃত্যুর কথা কেন? তিনি কেন বললেন, ‘আমি জানি কারা আমার বিরুদ্ধতা করছে, তারা হয়তো আমাকে বাঁচতে দেবে না, আমার সর্বনাশ করবে, কারণ ৭০ বছর ধরে যে লুঠের সম্পত্তি তারা সঞ্চয় করেছিল, আমার জন্য সেই সম্পদের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার।’ এই ‘তারা’ টা ঠিক কারা?

ভয় রয়েছে রাজনৈতিক সমর্থন হারানোরও। এই পদক্ষেপের আগে প্রধানমন্ত্রীকে দলের অনেকেই সতর্ক করেন। কিন্তু মোদি অনড় ছিলেন। অরুণ জেটলির কথা অনুসারে সেই আপত্তির জবাবে মোদি বলেন, ‘আমি কিছু করে যেতে চাই। কেবলমাত্র দুটো সেতু উদ্বোধন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী হইনি। রাজনৈতিক ক্ষতি হলে হবে। কালো টাকার বিহিত করেই ছাড়ব।’

বিজেপির অবিসংবাদী নেতা নরেন্দ্র মোদি। তার বক্তব্যের কোনও বিরোধিতা কেউ এখনও পর্যন্ত করেননি। কিন্তু, দল যদি রাজনৈতিকভাবে বিপদে পরে তবে কেউ যে ছেড়ে কথা বলবে না সেটা ভালই জানেন নরেন্দ্র মোদী। কারণ, আগেই দলের পক্ষে মোদিকে জানানো হয়, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশের সাধারণ মানুষ প্রবল সমস্যায় পড়ে যাবেন। তার ফল অন্যরকম হলেও হতে পারে। বুমেরাং হয়ে ফিরতে পারে এই কঠো‌র সিদ্ধান্ত।

বিভিন্ন বিরোধী দল যে বিরোধিতা করবে সেটা ভালই জানতেন নরেন্দ্র মোদি। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার শক্তিও রয়েছে তাঁর সঙ্গে। কিন্তু সেই বিপদ কখনওই প্রাণের ঝুঁকি নয়। মোদি আরও বড় চাকে ঢিল মেরেছেন।

দেশে শক্তিশালী সব জঙ্গি সংগঠনই এখন আর্থিক-সম্পদ শূন্য হতে বসেছে। পাক জঙ্গি সংগঠনগুলির অবস্থাও এক। আপাতত সন্ত্রাসবাদীদের হাত খালি। না, খালি নয়, বাতিল কাগজে ভরা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমনিতেই জঙ্গিদের টার্গেটে ছিলেন, রয়েছেন মোদি। কিন্তু এবার নতুন করে প্রতিহিংসার টার্গেট হলেন।

দেশের কালো বাজার, অপরাধ জগৎ সব সময়েই সমান্তরাল অর্থনীতি চালায়। তার মূলেও কুঠারাঘাত করতে চেয়েছেন মোদি। সেই কালো বাজার যে বড় ধাক্কা খেয়েছে তা অনস্বীকার্য। সুতরাং, সেখানেও শত্রু বাড়িয়ে ফেললেন নরেন্দ্র মোদি। সরকার সিদ্ধান্ত নিলেও এই পদক্ষেপ তার ‘একক’ বলেই প্রচার নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই বিপদটাও অনেকাংশেই তার ‘একক’।

এই দেশে এমন বিপদ নতুন নয়। স্বাধীনতার পরে প্রথম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়েছেন মহাত্মা গাঁন্ধী। ভক্ত সেজে কাছে গিয়ে গুলি করে মেরেছিল নাথুরাম গডসে। মোদির দলের আদিপুরুষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়েও রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ। এর পরে নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁন্ধীকে।

‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা’ শব্দকে মিথ্যা প্রমাণিত করে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁন্ধীকে হত্যা করেছে আততায়ীরা। এই সব হত্যার পিছনে ছিল একটি বা দু’টি সন্ত্রাসবাদী বিশ্বাসের প্রতিশোধ। কিন্তু, নরেন্দ্র মোদি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে বিপাকে দেশের সঙ্গে বিদেশের অপরাধ জগৎ। সেই তালিকায় ঘরোয়া বিপদ মাওবাদী থেকে দাউদ ইব্রাহিম সকলেই রয়েছে।

তাই বিপদটা অনেক বেশি। ঝুঁকিটা অনেক বড়। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালী। কিন্তু সুযোগসন্ধানী শত্রুরাও যে কম নয় তা বারবার প্রমাণিত। তাই কি মৃত্যুর কথা বলছেন মোদি?

ভিডিও: বিশ্ব কাঁপানো স্টাম্প ভাঙ্গা ১০ টি শীর্ষ পেস বল !! দেখুন (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment