slider জাতীয় ট্র্যাভেল বিভাগীয় সংবাদ

প্রবালে ঘেরা ভূস্বর্গ ইনানী

রেহেনা আক্তার রেখা: পানিতে আধো আধো বুজে থাকা ভেঁজা পাথরের মায়ার বাধন। পাথরের গাঁয়ে আঁচড়ে পড়া সাগরের ঢৈউয়ের খেলা। মাথার উপর দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়ের প্রেম নিবেদন। পায়ের সম্মুখে লাল কাঁকড়াদের ছুটোছুটি। একটু দূরে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। তার ওপারে প্রকৃতির অপরূপ সৌর্ন্দযের মাঝে অস্তগামী লাল সূর্য্য। সব মিলিয়ে লাল সবুজের চিরন্তন বাংলা যেন এখানে নবরূপে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ইনানী সমুদ্র সৈকতের এমন আবহে এসে কল্পনায় কোনো এক পরীর দেশে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করবে যে কারও।

ইনানী সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। ইনানীর মূল আর্র্কষণ প্রবাল আর পাথর। হাজার হাজার বছরের পুরনো এই পাথরগুলিতে মিশে আছে হাজার মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আর ভাল লাগা – না লাগার হাজারো মূহুর্তের স্মৃতি।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পৃথিবীর দীর্ঘতম ১২০ কিলোমিটার এই সমুদ্র সৈকতের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও মনোরম হচ্ছে ইনানী বীচ। চাঁদের গাড়ি করে মেরিন ড্রাইভ হয়ে ইনানী বীচ ভ্রমণ করার সময় আপনি এক পাশে পাহাড় অন্য পাশে নীল সমুদ্রের ঢৈউ দেখতে পাবেন। অন্যদিকে ঝাউ আর সুপারী বাগানের সৌন্দর্যেও মুগ্ধ হয়ে যাবেন। প্রকৃতির প্রেমে হারিয়ে যাবেন বার বার। এক কথায় ইনানীকে প্রকৃতির ভূস্বর্গ বলা চলে।

ইনানী থেকে শুরু করে টেকনাফ পর্যন্ত থরে থরে বিস্তৃত রয়েছে প্রবাল ও পাথর। সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি সমুদ্রের ভাঙ্গন থেকেও সৈকতকে রক্ষা করছে সেগুলো। এছাড়াও ইনানী বীচের অদূরেই পাটুয়ারটেক সী-বীচ। তার একটু পূর্বে পাহাড়ের নিচে রহস্যময়ী কানা রাজার গুহা। কানা রাজার গুহার পাশেই ফইল্লা চাকমার মাচাং ঘর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান বলে সুপরিচিত ফইল্লা চাকমার মাচাং ঘর।

কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের মাঝামাঝি অবস্থানে পড়েছে ইনানী। কাজেই সুগম্য এই মেরিন ড্রাইভ দিয়ে যেকোনো যানবাহনে এখন ইনানী সমুদ্র সৈকতে যাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি পোনা উৎপাদনের অনেক হ্যাচারি রয়েছে ইনানীতে। সেগুলোও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। এছাড়া সারি সারি সুপারি গাছ ইনানীকে আরো মহিমান্বিত করে রেখেছে। বন বিভাগের সুন্দর রেস্ট হাউসটি এক সময়ের একমাত্র রেস্টহাউস হলেও এখন ব্যক্তি মালিকানায় অনেক রেস্টহাউস ও হোটেল-মোটেল-কটেজ গড়ে উঠেছে। তাই পর্যটকরা এখন অনায়াসে ইনানী সমুদ্র সৈকতে স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারেন।

মেরিন ড্রাইভ ধরে ইনানী সমুদ্র সৈকত যাওয়ার পথে পাহাড়ঘেরা পরিবেশে পাখির কলকাকলী, সমুদ্রের গর্জন, শুভ্র রঙ্গের সাগরের ঢৈউ এবং সাগর পারে ঝাউ বাগানের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করার মজাই আলাদা। শুটিং করার জন্য এই সমুদ্র সৈকতসহ আশে পাশের অনেক পিকনিক স্পট এখন অনেকের কাছে তাই লোভনীয়।

কক্সবাজার জেলা শহরের কলাতলী বাসস্ট্যান্ড হয়ে বাস, মোটর বাইক, চাঁদের গাড়ীসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে মেরিন ড্রাইভ ব্যবহার করে ইনানী বীচে আসা যায়। এছাড়া ব্যাটারিচালিত টমটমে করেও মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। আপনি চাইলে লোকাল জিপে করেও ইনানী ঘুরে আসতে পারেন। যাওয়া আসার ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ১৮০-২০০ টাকা। আর জিপ রিজার্ভ নিতে লাগবে ১৮০০-২৫০০ টাকা। একটি জিপে ১০-১৫ জন ভালোভাবে ঘুরে আসতে পারবেন।