slider

সালমানের স্ত্রী সামিরাকে বিয়ে করা নিয়ে যা বললেন সামিরার ২য় স্বামী মোস্তাক

পরিবারের তরফ থেকে জানা গিয়েছিল, সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা স্বামী মোস্তাকসহ থাইল্যান্ডে বসবাস করছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ তথ্য সত্য নয়। সত্য হলো; মোস্তাক ওয়াইজ স্ত্রীসহ দেশেই রয়েছেন। ঢাকার গুলশান এলাকায় মঙ্গলবার মোস্তাকের সাথে সাক্ষাৎ ও কথা হয়েছে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর। বলা যায় প্রথমবারের মতো মিডিয়ার মুখোমুখি হলেন সামিরার স্বামী মোস্তাক।

সালমানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি সামিরাকে বিয়ে করেন বলে জানান। মোস্তাক বলেন, ‘সালমান শাহ আমার বন্ধু। তাকে আমি অনেক পছন্দ করতাম। সালমান মারা যাওয়ার ৩ বছর পর আমি সামিরাকে বিয়ে করি। সামিরা প্রথমে এই বিয়েতে রাজি ছিল না। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতেই আমাদের বিয়ে হয়।


চিত্রনায়ক সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মারা যান। মৃত্যুর ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রহস্যের জট আজও খোলেনি। মৃত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আত্মহত্যা হিসেবে এটাকে চালালেও পরিবারের দাবি সব সময়ই ছিল, সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে।

সালমান পরিবারের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা ও সামিরার বর্তমান স্বামী মোস্তাক ওয়াইজ। তিনি সালমান শাহর বাল্যবন্ধুও। সালমান শাহর মৃত্যুর তিন বছর পর মোস্তাক ওয়াইজ বিয়ে করেন সামিরাকে। সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে এখন পর্যন্ত সংবাদ মাধ্যমে মুখ খোলেননি সামিরা ও তার স্বামী মোস্তাক। সামিরার বাবার সাথে কথা বলে জানা যায়, সামিরা ও মোস্তাক থাইল্যান্ডে বসবাস করেন। বর্তমানেও থাইল্যান্ডে রয়েছেন। আদতে তা সত্য নয়।

সামিরার বিরুদ্ধে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তারপরও সামিরাকে বিয়ে করেন মোস্তাক। সে সময় তার সঙ্গে সামিরার পরকীয়ার গুঞ্জন ওঠে। এ বিষয়ে মোস্তাক বলেন, সামিরার সঙ্গে আমার পরকীয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ সামিরা আমার বন্ধু সালমান শাহর স্ত্রী। তাদের লাভ ম্যারেজ ছিল। সেখানে আমার সঙ্গে কেন পরকীয়া হবে?

মোস্তাক বলেন, আসলে আমি আমার বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকেই সামিরাকে পরে বিয়ে করেছি। ইমনের (সালমান শাহ) মৃত্যুর পর সামিরার জীবনটা অনেকে বিষিয়ে তুলেছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে তাকে বাঁচাতে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই ওকে বিয়ে করেছি।

সামিরা-মোস্তাকের ঘরে দুই মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। বর্তমানে তাদের নিয়ে সংসার করছেন তারা।

ভিডিওটি নিয়ে সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ডন যা বললেন

বাংলা সিনেমার তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ্ আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাকে খুন করা হয়েছিল— এ প্রশ্ন থামেনি এখনও। মৃত্যুর ২০ বছরেও পুরোপুরি মীমাংসা না হওয়া বিষয়টি এবার যেন নতুন বাঁক পেল।
সালমান শাহ্ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবি ৬ আগস্ট (গতকাল) ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রকাশিত করেছেন। যেখানে তিনি স্বীকার করেন নব্বই দশকের সবচেয়ে সফল এ নায়ককে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি নিজে এতে যুক্ত না থাকলেও তার স্বামী জ্যানলিন চ্যান, ছোট ভাই রুমী, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। আমেরিকা প্রবাসী এ নারী ঠিক কোথায় থেকে এ ভিডিও প্রকাশ করেছেন তা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি যে বেশ আতঙ্কগ্রস্থ ভিডিওটিতে তা ফুটে ওঠে।

ইউটিউবে প্রকাশিত এ ভিডিওটিতে তিনি জানান- জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা সালমান শাহ আত্মহত্যা করেনি, তাকে খুন করা হয়েছে।

এদিকে বর্তামান ভিডিওটি নিয়ে সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ডনকে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘রুবি নামের এই মহিলাকে আমি কখনও দেখিনি। তার ভিডিও সম্পর্কেও আমি কিছু জানি না।’

রুবির বক্তব্যটি নিয়ে সালমানের মা নীলা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি কারণ তিনি এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন।

১৯৯৬ সাল থেকে প্রয়াত এ নায়কের হত্যা মামলা চলে আসছে। বাবা কমরউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করেছিলেন।

এরপর থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি, র‍্যাব একে একে মামলাটির তদন্ত করে। মাঝখানে ১৫ বছর ধরে চলেছে বিচার বিভাগীয় তদন্তও। সব কটি তদন্ত প্রতিবেদনেই এটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পুলিশের নবগঠিত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

‘সালমান ভাইকে আমার সামনেই অপমান করেছে সামিরা’- মুনমুন

আত্মহত্যা নয়, সালমান শাহকে খুন করা হয়েছিল বলে দাবি করে অনলাইনে ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও সালমান শাহ হত্যাকাণ্ড মামলার ৭ নম্বর আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবি নামের একজন।

দিনভর এ বিষয়টি নিয়েই চলছে আলোচনা সমালোচনা। ফলে জনপ্রিয় এ নায়কের মৃত্যু রহস্যের নতুন মোড় পেল এবার। তার মৃত্যুতে সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা জড়িত এটিই এখন প্রতিয়মান হচ্ছে।

চলচ্চিত্রের অনেক তারকাই এখন বিষয়টি নিয়ে সরব হচ্ছেন। সালমান হত্যা

বিচারের দাবী জানাচ্ছেন তারা। ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রতিবাদ প্রকাশ করছেন তারা। সালমান শাহ মৃত্যুর পর জনপ্র্রিয়তা পাওয়া নায়িকা মুনমুন । সালমান শাহর সঙ্গে ভালো পরিচয় ছিল তার। সে পরিচয়ের সূত্র ধরেই আজ দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন এ নায়িকা।
সেখানে তিনি লিখেন, সালমান ভাইয়ের সাথে আমার কিছু মজার স্মৃতি আছে। তিনি অনেক চঞ্চল ছিলেন। যেন ছোট্ট শিশুর মতো। তার কোন অহংকার ছিল না। আমার মতো নতুন নায়িকাকেও আনন্দের সাথেই স্বাগতম জানিয়েছেলিন। তার স্ত্রী সামিরার সাথে হাশমত ভাইয়ের একটি ছবির মহরতে আমার পরিচয় হয়। আমার ভালো লাগেনি মহিলাকে। সালমান ভাইকে উনি আমার সামনেই অপমান করেছিলেন। ’

স্ট্যাটাসে তিনি সালমান শাহ’র হত্যার বিচার দাবী করে লিখেন, আমি সালমান ভাই হত্যার বিচার চাই। শুধু আমি নই। বাংলাদেশের সব নাগরিকরাই প্রিয় নায়কের এ নিষ্ঠুর হত্যার বিচার চায়। ’

সালমান শাহ’র সুইসাইড নোট, কি লিখেছিলেন নোটে?

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় ভাড়া বাসায় পাওয়া যায় অভিনেতা সালমান শাহর লাশ। ওই ঘটনায় সালমানের বাবা কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। সেই সময়ে সালমানের বাসা থেকে পুলিশ একটি সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার চিঠি উদ্ধার করে।

চিঠিতে লেখা আছে, ‘আমি চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার, পিতা-কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ১৪৬/৫, গ্রিনরোড, ঢাকা-১২১৫ ওরফে সালমান শাহ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে আজ অথবা আজকের পরে যেকোনো দিন মৃত্যু হলে তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে আমি আত্মহত্যা করছি।’

এই চিঠিতে কারও স্বাক্ষর ছিল না। তবে সিআইডির হস্তবিশারদেরা পরীক্ষা করে বলেছেন, এটা সালমান শাহের হাতের লেখা।

সালমানের মা নীলা চৌধুরী এই চিঠি নিয়ে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ওকে ইমন নামেই ডাকতাম। অথচ চিঠিতে ইমন নামের কোনো অস্তিত্ব নেই। ও থাকে ইস্কাটনের বাসায়। কিন্তু ঠিকানা লেখা আছে আমাদের বাসার। সালমান শাহ নামটিও ঠিকানার পরে লেখা।’

চিঠির ভাষার আনুষ্ঠানিক ভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলে নীলা চৌধুরী আরও বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করার আগে এ রকম মামলা লেখার স্টাইলে এত গুছিয়ে বাবার নাম, ঠিকানা উল্লেখ করে চিঠি লেখে বলে আমার জানা নেই। এখানেই আমার ঘোরতর সন্দেহ।’