খেলা-ধুলা

ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা পাকিস্তানের

ফাইনালের আগে ফেভারিট ছিল ভারত। অথচ মাঠের লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে পাত্তাই পেল না কোহলিরা। বোলিংয়ে জাস্প্রিত বুমরাহ আর রবিচন্দ্রন অশ্বিনদের দারুণ ভাবে সামাল দিয়ে ৩৩৮ রানের বিশাল স্কোর গড়ে পাকিস্তান। ভারতের মূল ভরসা তাদের ব্যাটিং লাইন আপ। বিশাল স্কোর তাড়া করতে হলেও ভারতের ভরসা ছিল রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান আর ভিরাট কোহলিকে নিয়ে গড়ে উঠা টপ অর্ডারের ওপর।

কিন্তু ভারতের সেই টপ অর্ডার ভেঙে পড়লো তাসের ঘরের মতো। উদ্বোধনী জুটির স্থায়ীত্ব মাত্র ৩ বল। এসেই আগুন ঝড়ালেন পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমির। সেই আগুনে ছাই হলো ভারতের টপ অর্ডার। রানের খাতা খোলার আগেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রোহিত শর্মা। নিজের পরের ওভারে ফিরিয়ে দেন ভিরাট কোহলিকেও। স্লিপে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেলেও পরের বলে শাদাবের হাতে ক্যাচ দেন কোহলি।

শিখর ধাওয়ান ও যুবরাজ সিং মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তাদের জুটিও ভাঙেন আমির। আমিরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ধাওয়ান (২১)। যুবরাজ থিতু হয়ে ফিরে যান লেগ স্পিনার শাদাবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ৩১ বলে ২২ রান করেন তিনি। পরের ওভারে হাসান আলির বাউন্সার হুক করে ছক্কা হাঁকাতে হিয়ে মিড উইকেটে ইমাদ ওয়াসিমের হাতে ধরা পড়েন ধোনি। ৫৪ রানের মাথাতেই ভারতের অর্ধেক সাজঘরে।

কেদার যাদবও পৌঁছাতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘরে। ৯ রান করে শাদাবের বল পুল করতে যান তিনি। কিন্তু টাইমিংয়ে গড়বড়। বল উঠে যায় শুন্যে। জমা পড়ে সরফরাজের গ্লাভসে।

৭২ রানে ৬ উইকেট হারানো ভারতকে সম্মান বাঁচানো স্কোর এনে দিতে লড়েন জাদেজা ও হার্দিক পান্ডিয়া। ৮০ রানের জুটি গড়ে তারা। ব্যাট হাতে ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে আনেন পান্ডিয়া। পান্ডিয়ার খুনে মেজাজের ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশা জেগে উঠেছিল ভারতের। ৬ ছক্কা আর ৪ চারে ৪৩ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে পান্ডিয়া। জাদেজার সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হলে ইতি ঘটে এ ইনিংসের। এরপর হাসান আলি আর জুনায়েদ খান গুঁড়িয়ে দেন ভারতের লোয়ার অর্ডারকে। মাত্র ১৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত।

১৮০ রানের বিশাল জয় নিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতে নিল পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ পাকিস্তান ৩৩৮/৪, ৫০ ওভার
ফখর জামান ১১৪, আজহার আলি ৫৯, হাফিজ ৫৭*
কেদার যাদব ১/২৭, ভুবনেশ্বর কুমার ১/৪৪, হার্দিক পান্ডিয়া ১/৫৩

ভারত ১৫৮/১০, ৩০.৩ ওভার
হার্দিক ৭৬, যুবরাজ ২২, ধাওয়ান ২১
আমির ৩/১৬, হাসান ৩/১৯, শাদাব ২/৬০