বিনোদন

প্রতিটি ক্ষেত্রে পিয়া দেখিয়েছেন ক্যারিশমা

tyসবে এসএসসি পাস করেছেন। উচ্চ মাধ্যমিকে কোথায় ভর্তি হবেন, সেটা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যায় পরিবার।
শেষমেশ সিদ্ধান্ত হয়, মেয়েকে ঢাকায় পড়ানো হবে। খুলনা থেকে ঢাকায় এসে উত্তরার মাইলস্টোন কলেজে ভর্তি হন জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া। এরই মধ্যে ফটোগ্রাফার অপূর্বর সঙ্গে পরিচয়। অপূর্ব পিয়ার মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বেশ কিছু ছবি তোলেন। সেই ছবি জমা দেওয়া হয় ‘মিস বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায়। পিয়ার ডাক পড়ে এবং সবাইকে পেছনে ফেলে মুকুট নিজের মাথায় তুলে নেন পিয়া।

‘শোবিজের প্রতি আমার আগে কোনো ধারণা ছিল না। সব কিছুই কেমন যেন স্বপ্নের মতো হয়ে গেল। যেন ঘুমিয়ে আছি, ঘুম ভাঙলেই স্বপ্নটা ভেঙে যাবে। ’ বললেন পিয়া। ২০০৮ সালের ঘটনা ওটা। পিয়া যেন হুট করে চলে এলেন একরাশ ঝলমলে আলোর সামনে। যেন শত-সহস্র উন্মুখ দৃষ্টি সেই আলোতে।

র্যাম্পজগত মাতিয়ে বিজ্ঞাপনে মডেল, অভিনয় প্রতিটি ক্ষেত্রে পিয়া দেখিয়েছেন ক্যারিশমা। তাঁর প্রথম টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রাণ ম্যাঙ্গো জুস। তবে পন্ডসের একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে পর্দায় নজর কাড়েন। বিজ্ঞাপনের কথা জানতে চাইলে পিয়া সবার আগে বলেন পন্ডসের কথা। ‘চার দিন ধরে শুটিং চলছে। তার মধ্যে দুদিন টানা ৪৮ ঘণ্টা কাজ। কাজ করে করে ক্লান্ত। শেষ মুহূর্তের কথা। তখন ভোর ৪টা। ডিরেক্টর উজ্জ্বল ভাই বললেন—রেডি, ওয়ান, টু, থ্রি। পিয়া ন্যাচারাল হাসিটা দাও। তখন ন্যাচারাল একটা জিনিসই করতে পারব, সেটা হলো কান্না। ’

সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের সঙ্গে কাজ করেছেন। সাকিবের সঙ্গে বিজ্ঞাপনে একটা দৃশ্য ছিল এমন—সাকিব আইসক্রিম নিয়ে পিয়ার দিকে এমনভাবে আসবে, যেন মনে হবে সেটা পিয়াকে দিতে আসছেন। কিন্তু পিয়াকে না দিয়ে সামনে দিয়ে খেতে খেতে চলে যাবেন। পিয়া বলেন, ‘সাকিব ভাই যে একটা মজার মানুষ, সেটা এই বিজ্ঞাপন করতে গিয়ে বুঝেছি। আমরা ক্যামেরার সামনে। তিনি আসছেন। তাঁর চোখেমুখে দুষ্টুমি। মনে হচ্ছিল আমরা আসলে ক্যামেরার সামনে নেই। ’ তামিমের সঙ্গে পিয়া করেছেন একটি বিজ্ঞাপন। অমিতাভ রেজার পরিচালনায় গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনে মডেলও হয়েছেন।

পিয়া তুমুল আলোচনায় আসেন ২০১৩ সালে মিসরের রেড সি এলগোয়ানে অনুষ্ঠিত ‘টপ মডেল অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে। সেখানে তিনি বিকিনি পরে অংশ নেন। দেশজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। পিয়া বলেন, ‘এসব নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। যারা কম জানবে তারাই সমালোচনা করবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে সমালোচকদের অন্তত এতটুকু জানা উচিত, বিশ্বের সব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় মেধা মনন, বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষার পাশাপাশি বিকিনি রাউন্ডও থাকে। এর মধ্যে আমি ৫০টি দেশ ঘুরেছি। আমি জানি মডেলিং কী, মডেলিং ক্যারিয়ার কী। অনেক বিতর্ক হয়েছে জানি, কিন্তু অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীকেও পাশে পেয়েছি। ’

পেশায় আইনজীবী পিয়া ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এক্সটার্নাল স্টুডেন্ট হিসেবে স্নাতক শেষ করেছেন। কখন পিয়া হেসে উত্তর দেন, ‘ধরেন কোনো একটা শোতে যাচ্ছি, সঙ্গে থাকে বই, নোট। গাড়িতে বসেই পড়ি। বিদেশে যাওয়ার সময় বই-খাতা রুটিন করে নিয়ে যাই। পুরো বিমান জার্নি পড়াশোনায় কাটে। ’ পিয়া সম্প্রতি ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি থেকে ‘বার-এট ল’ অধ্যয়নের অফার লেটার পেয়েছেন। মডেল পিয়া এবার ফিরবেন ব্যারিস্টার পিয়া হয়ে। তিনি রাজনীতিবিদ হতে চান। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কিছু করবেন, দৃঢ়তার সঙ্গে জানালেন। পিয়া বলেন, ‘পারিবারিক সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজন। মা ছিলেন বড় অনুপ্রেরণা। ’

কদিন আগেই নতুন করে আলোচনায় এলেন বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী ভোগের ভারতীয় সংস্করণের প্রচ্ছদে এসে। একজন মডেলের জন্য যা রীতিমতো ভাগ্যের বিষয়। ভোগ কর্তৃপক্ষই পিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পিয়া বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক কাজ করেছি, এটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা। ’

সম্প্রতি পিয়া ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের একটি বিলবোর্ড বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন। মিলানের একটি নামি মডেল এজেন্সির সঙ্গে তিন মাসের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। আপাতত তিন মাসের জন্য ইতালিতে থাকছেন তিনি।

ভিডিও:ভন্ড বাবার আস্থানায় মে-দের বুকে কি ভাবে হাত দেয় !! দেখুন গোপন কেমেরার ভিডিওতে

Add Comment

Click here to post a comment