অপরাধ/দুর্নীতি

কাঁদতে ভুলে গেছে সুবর্না

023140kalerkantho-03-11-2016-6সুবর্ণা, বয়স সবে ছয়। মাথায় কোপ, ঘাড় ও বুকে ছেঁকা, চোখে আঘাত। যত ধরনের শারীরিক নির্যাতন আছে, সবই চলেছে তার ওপর। শিশুটিকে মুন্সীগঞ্জের বল্লালবাড়ী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে গতকাল।

মুন্সীগঞ্জ সদরে দিনের পর দিন নির্যাতনের শিকার সুবর্ণা (৬) নামের এক শিশুকে গতকাল বুধবার সকালে এলাকাবাসী উদ্ধার করেছে। তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশুটি এখন থানা হেফাজতে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মা মারা যাওয়ার পর শিশুটিকে মুন্সীগঞ্জ সদরের বল্লালবাড়ী এলাকার সিরাজ মাদবরের স্ত্রী কল্পনা বেগম পালক হিসেবে নিয়ে যান। শিশুটিকে দিয়ে বাড়ির সব কাজ করানো হতো। কিন্তু খাবার তেমন দেওয়া হতো না তাকে। পরনে জোটেনি ভালো কাপড়। শিশুটিকে দিনের পর দিন নির্যাতন করা হয়েছে। তার শরীরজুড়ে জখমের চিহ্ন। মাথায় কোপের আঘাত, ঘাড়ে ছেঁকা, গলায় মারধরের কালো দাগ, বুকে পোড়া দাগ, চোখে কালো দাগ। অবশেষে গতকাল নির্যাতন করা অবস্থায় এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে থানা হেফাজতে পাঠায়। এর পরও ঘনিষ্ঠ স্বাবলম্বী স্বজন না থাকায় শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।

নির্যাতিত শিশুটি সদরের বানিয়াবাড়ী এলাকার শাহ আলমের মেয়ে। স্ত্রী ভারতী বেগম মারা যাওয়ার পর শাহ আলম বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানা যায়। গতকাল দুপুরে মুন্সীগঞ্জ থানায় গিয়ে দেখা যায়, সদর থানার ওসি ইউনুচ আলী তাঁর দুপুরের খাবার থেকে শিশুটিকে খাওয়াচ্ছেন। পরে তিনি শিশুটির সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

নির্যাতনের শিকার শিশুটির পাশের বাসার ভাড়াটে রানা বলেন, ‘বাচ্চা মেয়েটা বাসায় কাজ করত। আবার শুনতাম সিরাজ মাদবরের নাকি মেয়ে। প্রতিদিন মারধর করা হতো তাকে। ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হতো। বুধবার সকালে মেয়েটিকে মারধর করার সময় সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম, তাকে কাজের লোক হিসেবে রাখা হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসি।’

চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, মেয়েটিকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। তার চোখে এখন ইনফেকশন আছে।

এ ব্যাপারে কল্পনা বেগম বলেন, ‘ও আমার মেয়ে। ওকে আমি মারব, কাটব সেটা আমার ব্যাপার।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঘরের মেয়ে ঘরের কাজ না করে কি অন্যের বাড়িতে কাজ করবে? মাইরের কাজ করেছে তাই মেরেছি।’

মুন্সীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মফিজুর রহমান বলেন, শিশুটিকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার প্রকৃত অভিভাবককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। অভিভাবক পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Add Comment

Click here to post a comment