খেলা-ধুলা

৬ বছর আগে এই মিরাজকেই পুরষ্কার দিয়েছিলেন আইসিসির সভাপতি

fশত বাধা বিপত্তির পরেও হার মানেনি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের এই ছেলেটি। জন্মস্থান খুলনায়। খুব অভাবের সংসার ছিল মিরাজদের। আর দশজন বাবার মতই মেহেদীর বাবারও ইচ্ছা ছিল ছেলে পড়াশোনা করে বড় হোক। কিন্তু ছেলের মাথায় যে শুধু ক্রিকেট! বাবার চোখ এড়িয়ে পালিয়ে পালিয়ে ক্রিকেট খেলতেন মিরাজ। এরপরও ধরা পড়েছেন। খেয়েছেন পিটুনি। কিন্তু ক্রিকেট থেমে থাকেনি।
মিরাজের ক্রিকেটটা ছিল ঘুমের মধ্যেও। একদিন রাতে ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে বলে ওঠে, ‘মা মা জানালা আটকাও, ক্যাচ ধরো, ক্যাচ ধরো।’ এভাবেই ছেলে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্রিকেট-পাগলামির কথা বলছিলেন মা মিনারা বেগম।

ক্রিকেটের প্রতি মেহেদীর এই প্রেম দেখে মন গলে তার এক বড় ভাই রাসেলের। তিনি মেহেদীকে মুসলিম একাডেমিতে ভর্তি করে দেন। শুরু হয় মেহেদীর জীবনের নতুন অধ্যায়। টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। কয়েকদিন পরই অনূর্ধ্ব-১৪ দলের জন্য ক্রিকেটার বাছাইয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। মেহেদী ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়ে প্রথমবারের মত সাড়া ফেলে দেন। প্রাইজমানি হিসেবে পান ২৫,০০০ টাকা। আর তখন বাবারও মন গলে।

কিন্তু এই মেহেদী হাসান মিরাজ যে আজকে এত বড় অলরাউন্ডার হবে কে জানতো? হয়তো সেদিনই কিছুটা হলেও টের পেয়েছিলেন তৎকালীন আইসিসির সভাপতি ডেভিড মরগ্যান এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকরা।

এখন থেকে প্রায় ৬ বছর আগের ঘটনা। ২০১০ সালের ২০ মার্চ বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্ট চলছিল মিরপুর শেরে-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। অবশ্য মনে রাখার মত তেমন কিছু করতে পারেনি তখন তামিম-সাকিবরা। তবে পরাজয়কে মনে রেখেছেন মিরাজ। মিরাজ তখন ছোট ছিলেন। খেলেছিলেন অনূর্ধ্ব ১৪ ক্রিকেট টিমে। ২০১০ সালে ঐ ম্যাচ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশ সফরে ছিলেন তৎকালীন আইসিসির সভাপতি ডেভিড মরগ্যান।

আর এই টেস্টের প্রথম লাঞ্চ বিরতির সময় মরগ্যান ছোট মিরাজের হাতে তুলে দেন অনূর্ধ্ব ১৪ দেশ সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার। বল-ব্যাটে অসাধারন পারফর্ম্যান্স দেখিয়ে ২০১০ সালে বাংলাদেশের সেরা খেলোয়ার হন মিরাজ।

৬ বছরের ব্যবধানে সেই তরুণ এখন খেলছেন সেই তামিম-সাকিবদের সাথে জাতীয় ক্রিকেট টিমে। তাও আবার অভিষেক হয়েছে সেই ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে। আর প্রথম দিনেই জাত চিনিয়েছেন এই সেদিনের ছোট্ট ছেলেটি।

টেস্ট ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ধুমকেতুর মত আবির্ভাব ঘটে মিরাজের। চট্টগ্রামে অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসেই ৬ উইকেট তুলে ধসিয়ে দেন ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপ। দ্বিতীয় ইনিংসেও ১ উইকেট। যদিও সেই ম্যাচটা দুঃখজনকভাবে মাত্র ২২ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর? অনেক ক্রিকেটারই অভিষেকে চমক দেখান, কিন্তু তার ধারাবাহিকতা রাখেন কয়জন? মিরাজ সেই ধারাবাহিকতা রাখলেন। তাই দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্টে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন মিরাজ। দুই ইনিংসেই ৬টি করে মোট ১২টি উইকেট দখল করেন তিনি! পুরস্কার স্বরুপ মেহেদীর হাতে উঠে দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ সহ সিরিজ সেরার পুরস্কার!

ভিডিও: মাইক্রো ওয়েভ তো সবাই ব্যবহার করেন, আজ শিখে রাখুন মাইক্রো ওয়েভের ১০ টি দূর্দান্ত টিপস!!!(ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment