বিভাগীয় সংবাদ

৬ দিনের শিশু কোলে নিয়ে নিয়ে ঘুরছেন মা শাহীনূর

ছয় দিন বয়সী নবজাতক শাওনকে কোলে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আশ্রয় কেন্দ্রের এদিক সেদিক ঘুরছেন মা শাহীনুর। স্বামী বাবুলসহ রাঙ্গামাটি বেতারের আশ্রয় কেন্দ্রে এক কাপড়ে অবস্থান করছেন পাঁচ দিন ধরে। পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ভেদভেদীর নতুন পাড়ার বাসিন্দা শাহীনুরের শিশু সন্তানের জন্ম হয় ১৩ জুন সকালে রাঙ্গামাটি হাসপাতালে। যে দিন পাহাড়ধসের ঘটনায় তার ঘর মাটিচাপা পড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। হাসপাতালে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘরের কিছু বের করতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে রাঙ্গামাটি বেতারের আশ্রয় কেন্দ্রে।


কিন্তু কোলের শিশুকে খাইয়ে ও কাপড়ে জড়িয়ে আগলে রাখলেও মায়ের পেটে খাবার তেমন জোটে না। শাহীনুর জানান ,আশ্রয় কেন্দ্রে খাবার একবার এলে আরেকবার আসে না। দুর্যোগের কারণে স্বামীর আয় রোজগার বন্ধ। সন্তানের জন্মের পর এমন অবস্থায পড়তে হবে তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি। আশ্রয় কেন্দ্রে এত মানুষের গাদাগাদি করে থাকতে হওয়ায় সন্তানের সুস্থ থাকে কিনা সে চিন্তায় অস্থির থাকেন সব সময়। পরনের কাপড়ও নেই। এক কাপড়ে আছেন আশ্রয় কেন্দ্রে। যদিও রোববার অনেকে কাপড় চোপড় সাহায়্য দিতে এসেছে। কত দিন বেতার কেন্দ্রের আশ্রয় কেন্দ্রে থাকতে হবে তা তার জানা নেই। এ ভাবে সন্তানকে সুস্থ্ রাখতে পারবেন কিনা সে শংকা মায়ের মনে তাড়া করে ফিরছে। শাহীনুরের মতো নবজাতক নিয়ে না হলেও অনেকে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে আছেন এ আশ্রয় কেন্দ্রে।
পাহাড়ধসের ঘটনার পর বেতার কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রে প্রথম দুদিন খাবার পেতে কষ্ট হয়েছে। এখন তারা খাবার পাচ্ছেন। তবে রাতে খাবার যা দেয়া হচ্ছে তা থেকে বাঁচিয়ে সেহেরি খেয়ে সকলে রোজা রাখছেন। কারা খাবার দিচ্ছে তা তারা জানেন না। পানির সমস্যাও প্রকট। রয়েছে পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যা।
মো. সেলিম নামের এক যুবক জানান, সকালে খাবার আসেতো বিকালে আসে না এ অবস্থা। মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। স্ত্রী, মেয়ে নিয়ে সে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে ৫ দিন ধরে। কিন্তু খাবার নেই। খাবার এই আসে তো এই আসে না অবস্থা। সময় মতো খাবার পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, সবচেয়ে সমস্যা বাচ্চাদের নিয়ে। বড়রা একবেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে পারে। কিন্তু ছোট বাচ্চারা পারছে না। দুপুরে খাবার দিলে সকালে পাওয়া যায় না। তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তা। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
নতুন পাড়ার ২৬ পরিবারের ১২০ সদস্য রাঙ্গামাটি বেতারের আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন । সবারই এখন তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। তাদের বাড়ি ঘর সব ধবংস হয়ে গেছে। ধসে পড়া ওসব স্থানে তারা আর থাকতে চায়না। তাদের অন্য কোনো জায়গায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হলে তারা আবারো নতুন করে বাচঁতে পারবে।
গত কয়েক দিন শহরের ১৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রে খাবার সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ উঠায় রোববার আশ্রয় কেন্দ্রের দায়িত্ব নানা ভাবে বন্টন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মানজারুর মান্নান জানান সেনাবাহিনী ৮টি, বিজিবি ৪টি, পুলিশ ৪টি, রেড ক্রিসেন্ট ৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খাদ্য সরবরাহসহ সার্বিক বিষয়ে তদারকি করবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে চিকিৎসা ক্যাম্প থাকবে।

সুত্রঃ নয়া দিগন্ত