slider মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

৫৭ বছর ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. মান্নান

1aবয়স আশির কোঠায়। শরীরে বাসা বেঁধেছে বার্ধক্যজনিত রোগ। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। তবু চলা থেমে নেই। নেই এতটুকু ফুরসত। ঘরে বসে প্রতিদিন শত শত রোগীকে দেন চিকিৎসাসেবা। আর গরিব রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধটাও দেন বিনামূল্যে। প্রায় পাঁচ যুগ ধরে নিভৃত পল্লীতে অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। বলছিলাম ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ডাক্তার আবদুল মান্নানের কথা। এটাই তার জীবন। আর তাই সবাই তাকে ‘গরিবের ডাক্তার’ ডাকে, চেনে।

ডাক্তার আবদুল মান্নান বলেন, “সাতান্ন বছর আগের কথা। সবে ডাক্তারি পাস করেছি। পশ্চিম পাকিস্তানে একটা ভালো চাকরির সুযোগ এলো। নিয়োগের চিঠিটা হাতে নিয়ে মাকে পা ছুঁয়ে সালাম করতেই মায়ের চোখে জল। ভাবলাম ছেলেকে এত দূরে যেতে দিতে হবে, তাই এই নীরব কান্না। কিন্তু আমার ভুল ভাঙিয়ে মা বললেন, ‘বাবা, আমি এত কষ্ট করে তো তোমাকে পশ্চিম পাকিস্তানিদের সেবার জন্য ডাক্তার বানাইনি! ডাক্তার বানিয়েছি এই গ্রামের অসহায় গরিব মানুষের জন্য। তাদের সেবা করো, তবেই আমি সবচেয়ে বেশি শান্তি পাব।’ নিয়োগের চিঠিটা ছিঁড়ে ফেললাম। মায়ের কথা মেনে রয়ে গেলাম আমার গ্রামে। সেই থেকে যখন কোনো অসহায় গরিব রোগী দেখি, চোখের সামনে আমার মায়ের মুখটা ভেসে ওঠে।”

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, স্বাধীনতার আগে এ অঞ্চলে যখন কোনো ডাক্তার ছিল না। তখন এখানকার মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল ছিলেন ডা. আবদুল মান্নান। দিনে-রাতে যেকোনো সময় তাকে ডেকে পাওয়া যায়নি, এমনটি কেউই মনে করতে পারলেন না।

সারা জীবন মানবসেবা দিলেও রাখেননি হিসাব। তবে গড়ে দৈনিক ৭৫ জন হলে ৫৭ বছরে প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন তিনি। জীবনে সরকারি ছুটি আর উৎসবের দিনেও চিকিৎসা বন্ধ করেননি।
গৌরীপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে গ্রন্থের লেখক রণজিৎ কর বলেন, তিনি শুধু বিনামূল্যে ব্যবস্থাপত্র দেননি, অনেককে ওষুধ ক্রয়ের টাকাও দিয়েছেন। প্রকৃত অর্থেই একজন সমাজ হৈতষী।

উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের শেখ আব্দুল করিম ও শেখ নেকজান বিবির পুত্র আ. মান্নান। শিক্ষার সনদে জন্ম তারিখ ২ জানুয়ারি ১৯৩৬। আর.কে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করে ১৯৬০ সাল থেকে চিকিৎসা সেবা পেশা শুরু করেন। মায়ের আদেশ পালন করতেই তিনি জন্মভূমি ছেড়ে সরকারি চাকরি বা দূরে চিকিৎসা সেবা দিতে যাননি। দাম্পত্যজীবনে তিনি ৫ কন্যা ও ৩ পুত্রের জনক।

ডা. আব্দুল মান্নান বলেন, ডাক্তার মানেই সেবা। যারা আজ ডাক্তার হচ্ছেন, তাদের সেবার মনোভাব শূন্যতায় পৌঁছে যাচ্ছে।

নতুন প্রজন্মের ডাক্তারদের জন্য তিনি লিখেছেন ‘বাংলাদেশের চিকিৎসা বিভ্রাট ও প্রতিকার’ নামক একটি বই। আজ বয়সে তিনি প্রবীণ। মন, কর্ম ও মানুষের সেবার মানসিকতায় রয়েছে তারুণ্যের গতি।

গৌরীপুর উপজেলা ঘোষণার পূর্বে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ থানা পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে গৌরীপুর পৌরসভার কমিশনার ও ১৯৭৭ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে লাঙল প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচন করেছেন।

ভিডিওঃ পার্কে গার্লফ্রেন্ড এর কাছে চাওয়া! কি হচ্ছে এসব? ভিডিও



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন

Add Comment

Click here to post a comment