গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

৩ দিন পর ফের মেয়রের চেয়ারে মান্নান

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার ৩ দিন পর ফের আদালতের নির্দেশে মেয়রের চেয়ারে বসেছেন।

সোমবার দুপুর ১টার দিকে অধ্যাপক মান্নান কাউন্সিল ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নগর ভবনে গিয়ে নিজ দফতরের চেয়ারে আসন গ্রহণ করেন।

এর আগে অধ্যাপক এমএ মান্নান নগর ভবনে আসবেন এমন খবরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিএনপি পন্থী কিছু কাউন্সিলর সিটি কর্পোরেশনের সামনে এসে উপস্থিত হন। দুপুর একটার দিকে নগর ভবনের প্রধান ফটকের সামনে নামার পর দলীয় নেতাকর্মী, কাউন্সিলরগণ এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীরা তাকে ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানান।

পরে মেয়র তার নিজ দফতরে এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের জানান, আইনী লড়াইয়ে বিজয়ী হয়ে ফের মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। যেহেতু সিটি নির্বাচনের এক বছরেরও কম সময় রয়েছে সেহেতু রাস্তাঘাট, পানি নিষ্কাশনসহ অতি জরুরি কাজগুলো দ্রুত সম্পাদন করা হবে।

গাজীপুর সিটি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান ২০১৩ সালে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর গত ৪ বছরে তিনবার বরখাস্ত এবং ২২ মাস করাভোগ করেছেন। দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ১৮ মাস ১৯ দিন। তার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে ৩০টি মামলা।

২৮ মাস নগর ভবনের বাইরে থাকার পর গত ১৮ জুন আদালতের নির্দেশে মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার ১৯ দিনের মাথায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪র্থ বছর পূর্তির দিন ফের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মেয়র পদ ফিরে পেতে মন্ত্রনালয়ের বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে মান্নান রোববার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটির শুনানি হলে আদালত মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশ তিন মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। তৃতীয় দফা সামফিক বহিষ্কারের তিনদিন পর সোমবার দুপুরে তিনি ফের মেয়রের চেয়ারে বসলেন।

প্রসঙ্গত, যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলা মামলায় ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মেয়র এমএ মান্নানকে ঢাকার বারিধারার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে ৩০টি মামলা দায়ের করা হলেও সব কটি মামলায় তিনি জামিন লাভ করেন।

মান্নানের অবর্তমানে ২০১৫ সালের ৮ মার্চ থেকে প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।