খেলা-ধুলা

২৫ বছরের আক্ষেপ ঘোছানো সরফরাজদের পাকিস্তানে বীরোচিত সংবর্ধনা

এমনই তো হওয়ার কথা ছিল। অনেকে বলছেন, পাকিস্তানের ক্রিকেটের পুনর্জন্ম হয়েছে ওভালে। ১৮ জুনের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতে। প্রথমবারের মতো এই আসরের ফাইনালে উঠেই শিরোপায় চুমু খেয়ে। চিরশত্রু ভারতকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে। সরফরাজ আহমেদের পাকিস্তান দলের জন্য তো দেশে বীরোচিত সংবর্ধনাই অপেক্ষা করছিল। মঙ্গলবার ভোরে সরফরাজ ও তার দল ভাগ হয়ে করাচি ও লাহোর বিমানবন্দরে পৌঁছালো। সেখানে অগণিত ভক্ত-সমর্থকরা পরম উষ্ণতা আর ভালোবাসায় বরণ করে নিলেন জাতীয় বীরদের।

ইতিহাস গড়া কারিগরদের জন্য সমর্থকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষ করছিলেন। বেশ ভোরেই পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ ও পেসার রুম্মন রইস লন্ডন থেকে করাচিতে পৌঁছলেন। সেহরি আর ফজরের নামাজ শেষ করে ওই ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটের সময় তো মানুষের ঘুমানোর কথা। কিন্তু সরফরাজরা দেখলেন, ওই কাক না ডাকা ভোরেই বিমানবন্দরের বাইরের পথটা ভক্ত-সমর্থকে শোভিত। সরফরাজের হাতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা। বিমানবন্দর ছাড়ার আগেই দেখেছেন ভেতরে অনেক নারী-পুরুষ-শিশু। আসলে রাত জেগেই বিমানবন্দরে হিরোদের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।

আর বাইরে রাস্তায় সারি দিয়ে দাঁড়ানো মানুষ। পথের আশেপাশে যে সব ভবন তার ছাদে ও ব্যালকনিতে হাসিখুশি মানুষের মুখ। পুলিশের পাহারা একটু জোরদার করতে হয়। তার মধ্যে দিয়ে চলেন সরফরাজ। স্লোগান ওঠে, ‘সরফরাজ দীর্ঘজীবি হোক’। পুলিশের ব্যান্ড পার্টি তৈরি ছিল এমন মুহূর্তের জন্য। তাদের পারফরম্যান্সে অন্ধকার সরে আলো আসতে চায়। ভক্তরা ৭০ ফুট দীর্ঘ জাতীয় পতাকা নিয়ে এসেছিলেন। ক্রিকেটারদের স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তুলে দেওয়া হয় সিন্ধের ঐতিহ্যবাহী শাল বা চাদর। যখন যেখানে যে সুযোগ পেয়েছেন সেলফি তুলেছেন। বাদ পড়েননি সরকারী বড় কর্তারাও।

সরফরাজ ছোট করে এই আনন্দের মধ্যে বলে গেছেন, ‘আমাদের এই জয়ের জন্য আল্লাহ এবং প্রার্থনার জন্য গোটা জাতিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

বিমানবন্দর থেকে সরফরাজের বাড়ি বেশি দূরে নয়। তবে সেখানে পৌঁছাতেও আধঘণ্টার মতো সময় লাগে সরফরাজের। তার প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী পাড়ার জাতীয় বীরকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষাতেই ছিলেন। আলোকসজ্জায় গোটা এলাকাটায় ঈদের বেশ আগেই ঈদ উৎসব এনে ফেলা হয়েছে। দারুণ তৃপ্তি নিয়ে সরফরাজ ঢোকেন তার বাড়িতে। রাজার বেশে সুইট হোমে ফেরা!



সর্বশেষ খবর