আন্তর্জাতিক

২২ বছর পর ছেলেকে দাফন করবেন মা!

গত শতকের শেষ দশকে ইউরোপের অন্যান্য দেশের শিশু-কিশোররা যখন স্কুলে যেতো এবং বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াতো। সেখানে বসনিয়ান শিশু-কিশোরদের লড়াই করতে হতো প্রাণ বাঁচানোর জন্য। এমনি এক কিশোরের নাম দামির সুলজিক। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার জীবনের ইতি ঘটে। ১৯৯৫ সালে তার বাবার সাথে তাকেও হত্যা করা হয়।

ছয় সদস্যের সুলজিকদের পরিবার বসবাস করতো স্রেবেনিকার নিকটবর্তী বসনিয়ান গ্রাম পুসমুলিকিতে। ১৯৯৫ এর ১০ জুলাই বসনিয়ার সার্ব বাহিনীর আক্রমণ থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল সুলজিকরা। সেখান থেকে ৬০ মাইল দূরে তুজলা অঞ্চলে পৌঁছলেই বেঁচে যেতে পারতো তারা। কারণ তুজলা ছিল বসনিয়ান মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে লোমহর্ষক গণহত্যার শিকার হন সুলজিকদের মতো হাজারো বসনিয়ান। স্রেব্রেনিকার ‘নিরাপদ এলাকা’ দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যাওয়ার সময় সার্ব সেনাদের হাতে প্রাণ যায় অন্তত আট হাজার বসনিয়ান মুসলমানের। সে হত্যাযজ্ঞটি সম্পন্ন হয়েছিল আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা মিশনে থাকা ডাচ সেনাদের সামনেই।

গভীর সেসব বনাঞ্চলে চাপা দেওয়া হয়েছে হাজারো বসনিয়ানের লাশ। এরকম বিভিন্ন গণকবর থেকে সুলজিককে পাওয়া গিয়েছিল। ২০১১ সালে শুধু সুলজিকের মাথা পাওয়া গিয়েছিল। সেটা থেকেই বের করা হয় তার পরিচয়।

সুলজিকের মা হানিজা, তার ১২ বছর বয়সী অপর ছেলে বাকির ও দুই কন্যা নিয়ে জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রণাধীন পটোকারি এলাকাতে যেতে সক্ষম হয়েছিল। ২২ বছর আগে হারানো স্বামী ও ছেলের কথা মনে করে আনাদুলো এজেন্সির কাছে বলেন: ‘দামির সুলজিক তার বাবার কাছে বলছিলো কে জানে কি হয়? বাবার কাছে কেঁদে কেঁদে বলছিলো আমার জীবন সার্বদের হাতে তুলে দিওনা।’

প্রিয় সন্তানের এই কথাটি সে সারাজীবন ভুলতে পারবে না। যাদেরকে ভয় পাচ্ছিল তাদের কাছেই প্রাণ গেলো সে কিশোরের।

স্বামী ও শশুরের দেহাবশেষ আগেই পাওয়া গিয়েছিল। তাদেরকে কবর দেওয়া হয়েছে। এবার প্রিয় ছেলে সুলজিককেও তাদের পাশেই কবর দিচ্ছেন মা।