জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ রংপুর

২টি কাঁচা মরিচ ১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে

লালমনিরহাটে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবজির দোকানগুলোতে ২টি কাঁচা মরিচ ১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি লালমনিরহাটসহ সারা দেশে ভয়াবহ বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার কারণে বাজারে কাঁচা শাক-সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সূচনা সিনেমা হল এলাকায় এক এনজিও কর্মী ৫ টাকার কাঁচা মরিচ ক্রয় করতে গেলে গুনে গুনে তাকে ১০টি মরিচ দেয় দোকানদার।

এর কারণ জানতে চাইলে দোকানদার জহর উদ্দিন বলেন, ‘১শ’ গ্রাম কাঁচা মরিচের দাম ২০ টাকা। ১শ’ গ্রাম মরিচ ওজন করে দেখা গেছে ৪১টি কাঁচা মরিচ উঠেছে। সেই হিসেবে প্রতিটি মরিচের দাম পড়ে ৫০ পয়সা করে। পাঁচ টাকার মরিচ কিভাবে দেবো? তাই প্রতি মরিচ হিসেবে দাম ধরছি, যাতে করে নিম্ন আয়ের মানুষজন ২টাকায় ৪টি মরিচ নিতে পারে।’

এ ছাড়া বেগুন, পটল ও মুলা ৫০ টাকা, লাল শাক, মুলা ও লাউ শাক ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুন দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজি ক্রেতা আকলেমা আক্তার বলেন, ‘কাঁচামরিচের এমন আকাশ ছোঁয়া দামের কারণে ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। অন্য দিকে ভালো দাম পাওয়ায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন স্থানীয় মরিচ চাষীরা।’

হাতীবান্ধা মুক্তিযোদ্ধা বাজারের কাঁচা সবজি দোকানদার আবদুল সামাদ বলেন, ‘বন্যার কারণে কৃষকরা মরিচ চাষ করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যে কারণে মরিচের দাম এবার অনেক বেড়ে গেছে।’

জেলার আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী এলাকার মরিচ চাষী সাদেকুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, যেসব জমিতে বন্যার পানি জমে না সেই সব জমিতে তারা মরিচ চাষ করেন। কিন্তু এ বারের বন্যায় উচু জমির মরিচ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে বাজারে দামের প্রভাব পড়েছে।

তবে চাষীরা বেশি দাম না পেলেও ফড়িয়া মহাজনেরা দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লাভ করছেন। আর ভোগান্তির কবলে পড়েছে সাধারণ মানুষজন।

এদিকে কৃষি বিভাগ দাবী করছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে চাষীরা নতুন উদ্যোগে শাক-সবজিসহ ফসল উৎপাদনে মাঠে কাজ করছে। খুব শিগগিরই কাঁচা শাক সবজি’র দাম কমে আসবে।