জাতীয়

১৬ আগস্ট নয় মাসের শিশু ফাতেমার ভাগ্য নির্ধারণ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেলে যাওয়া নয় মাসের শিশু ফাতেমার ভাগ্য নির্ধারণের জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার ছয় অভিভাবকের মধ্যে শিশুটি কোন অভিভাবকের কাছে যাবে- এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন ঢাকার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক সামছুন্নাহার শিশুটির ভাগ্য নির্ধাণের জন্য পরবর্তী ওই দিন ধার্য করেন।

ঢাকার শিশু আদালতের পেশকার মো. এনামুল হক মিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২৫ জুলাই শিশুটির প্রকৃত বাবা-মাকে খুঁজে বের করার আদেশ দেন বিচারক। একই সঙ্গে শিশুটিকে কোন অভিভাবকের কাছে দেয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্র জানায়, শিশু ফাতেমার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেয়ার জন্য আদালতে ইতিমধ্যেই ছয় দম্পতি আবেদন করেছেন। এরা হলেন- সেলিনা আক্তার, শ্যামলী আক্তার, লায়লা নূর, নিঝুম আক্তার, শাহনাজ বিনতে হান্নান ও দুলসাদ বেগম বিথি দম্পতি।

প্রসঙ্গত, ৯ জুলাই বিজি-০০৮৫ বিমানে জর্ডান থেকে দুবাই হয়ে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা একটি ফ্লাইটে স্বাপ্না নামে এক যাত্রীর কোলে শিশু ফাতেমাকে রাখার অনুরোধ করেন তার মা।

স্বপ্নাও মায়াবসত শিশুটিকে কোলে নেন। শিশুটিকে কোলে নিয়ে স্বপ্না শিশুটির মায়ের সঙ্গে খোশ গল্প করতে থাকেন। রাত নয়টায় বিমানটি বিমানবন্দরে পৌঁছলে শিশুটির মা স্বপ্নাকে শিশুকে নিয়ে গোলচত্বরের ওভারব্রীজের কাছে দাঁড়াতে বলে এবং তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে বুকিংকৃত মালামাল গ্রহণ করে ওই স্থানে আসবেন বলে আশ্বাস দেন।

ওইদিন ওই নিদিষ্ট স্থানে দুই-তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে স্বপ্না তার বাসায় শিশুটিকে নিয়ে যান। পর দিন বিকাল ৩টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে বিমানবন্দরের এপিবিএন পুলিশের কাছে আসেন।

পরে এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানায় জিডি করা হয়। পরবর্তী সময়ে শিশুটিকে পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনে (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানেই রয়েছে।